নিজস্ব প্রতিনিধি , কোচি - কেরলের কল্লাম জেলার ওচিরায় জন্ম নেওয়া মুহাম্মদ বিন ফারুকের জীবন তার মায়ের উপহার দেওয়া কয়েকটি গাপ্পি মাছের জন্য যে পাল্টে যাবে সেটা কে বা জানতো । ছোটবেলায় মা'র উপহার হিসেবে গাপ্পি মাছ কিনে দিয়েছিলেন, সেই মাছগুলোর যত্ন করতে করতেই ছোট্ট ফারুকের মাছ প্রতিপালন শখ হয় । সেই মাছগুলো সময়ে সময়ে বৃদ্ধি পেতে শুরু করল। ক্লাস ৮-তে পৌঁছতে তার ঘরে প্রায় একশোটি অ্যাকুয়ারিয়াম ছিল, আর মাছ লালন-পালন হয়ে ওঠে তাঁর প্রথম পেশা। পরবর্তীকালে যা একটি কোটি টাকার অ্যাকোয়ারিয়াম ফিস বা অরনামেন্টাল ফিস কোম্পানিতে পরিণত হয়।

তার যাত্রা শুধু আবেগের ভিত্তিতে নয় — বৈজ্ঞানিক শিক্ষায় মেধা ও পরিশ্রমও মিশেছে । ফারুক মৎস্য ও জলজ জৈবতত্ত্বে স্নাতক, অর্নামেন্টাল মৎস্যচাষে ডিপ্লোমা ও পিজি ডিপ্লোমা, এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশারিজে এমএসসি করেছে। এখন তিনি মাছ জেনেটিক্স নিয়ে পিএইচডি করছেন — যার মাধ্যমে তিনি মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, গুণগত উন্নয়ন ও প্রজনন প্রযুক্তি তৈরি করছেন।

আজ তার কোম্পানি ৪৩ ধরনের অর্নামেন্টাল মাছ উৎপাদন করে, এবং বছরে প্রায় ২০–২৫ লক্ষ বেবি ফিস তৈরি করে। রফতানির জন্য প্রস্তুত করা হয় প্রায় ১০–১২ লক্ষ মাছ। বর্তমানে তার " মাছের " চাহিদা শুধু ভারতীয় বাজারে সীমাবদ্ধ নেই , দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে, সৌদি আরব কুয়েত কাতার সহ অন্যান্য দেশগুলিতে প্রসারিত হয়েছে ।

গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা তার ব্যবসার মূলমন্ত্র। ভারতীয় বাজারে ভালো মাত্রার ফিড পাওয়া কঠিন হওয়ায়, ফারুক নিজেই ‘ইন-হাউস’ ফিড তৈরি করেন, যাতে থাকে সামুদ্রিক খাবার ও চিংড়ি পাউডার। প্রতি প্রজনন চক্রের পর ট্যাঙ্ক জীবাণুমুক্ত করা হয় যাতে রোগ বা দূষণ না ঘটে।

ফারুক ইতিমধ্যে বহু পুরস্কার পেয়েছেন, যেমন ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের “সেরা অর্নামেন্টাল ফিশ চাষীর” খেতাব। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব মাছচাষকে ছড়িয়ে দেওয়া। তার অভিমত—যদি আপনার ‘শখ’ ও ‘জ্ঞান’ একসাথে চলে, তাহলে তা অর্থবহ রূপ নিতে পারে।
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর