নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় রেপো রেট বা Repo Rate হলো এমন একটি নীতিগত সুদের হার, যার মাধ্যমে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলির কাছে স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদান করে। রেপো শব্দটি এসেছে Repurchase Agreement থেকে। এই ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলো RBI-এর কাছে সরকারী সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে অর্থ ধার করে এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে সেগুলো পুনরায় কিনে নেওয়ার অঙ্গীকার করে। রেপো রেট মূলত মুদ্রাস্ফীতি, তারল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ব্যবহৃত হয়।
ভারতের অর্থনীতিতে রেপো রেটের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। যখন বাজারে অর্থ সরবরাহ অতিরিক্ত বেড়ে যায় এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়, তখন RBI রেপো রেট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। রেপো রেট বাড়লে ব্যাংকগুলোর জন্য RBI থেকে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে ব্যাংকগুলো কম ঋণ গ্রহণ করে। এতে বাজারে প্রচলিত অর্থের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক মন্দা বা বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিলে RBI রেপো রেট কমিয়ে দেয়, যাতে ব্যাংকগুলো কম খরচে অর্থ ধার করতে পারে এবং সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণ সহজ হয়। এর ফলে বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পায়, ব্যবসা সম্প্রসারণ হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
রেপো রেট পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ে ব্যাংকের ঋণের সুদহারে। রেপো রেট বাড়লে গৃহঋণ, যানবাহন ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণসহ বিভিন্ন ঋণের সুদহার বাড়তে পারে। এর ফলে সাধারণ জনগণের ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে। একইভাবে রেপো রেট কমলে সুদের হার হ্রাস পায়, ফলে মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা বেশি ঋণ নিতে উৎসাহী হয়।
ভারতে রেপো রেট নির্ধারণ করা হয় RBI-এর Monetary Policy Committee (MPC) -এর মাধ্যমে। MPC সাধারণত প্রতি দুই মাস অন্তর বৈঠক করে এবং দেশের মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বাণিজ্য, আর্থিক বাজারের পরিস্থিতি ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে। তাদের সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনীতির স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
রেপো রেট ভারতের আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি বলা যায়। এটি শুধু ব্যাংকিং ব্যবস্থাই নয়, বরং শেয়ারবাজার, বন্ড বাজার, বিনিয়োগ খাত এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে সক্ষম। কার্যত রেপো রেট একটি দেশের অর্থনৈতিক নাড়ি, যা পরিবর্তিত হলে গোটা আর্থিক পরিবেশে তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, রেপো রেট ভারতের মুদ্রানীতির একটি কেন্দ্রীয় উপাদান, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সুশৃঙ্খল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চেক বাউন্স হলে আইনি নোটিস থেকে শুরু করে মামলা জরিমানা এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে
ডিফেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ কি ভবিষ্যতে বড় লাভের “টাকার খনি” হতে পারে, তা নিয়েই বিশেষ বিশ্লেষণ
অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসার নতুন দিশা—নার্সারি গড়ে ঘর থেকেই শুরু করুন নিশ্চিত আয়ের পথ।
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো