নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে পুরুষের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি তেমন আলোচনায় আসেনি। সাম্প্রতিক গবেষণা ও চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা বলছে, বিশ্বজুড়ে বহু পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান আগের তুলনায় কমছে। এর পেছনে শুধুমাত্র একটি নয়, বরং জীবনযাপন, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একাধিক কারণ কাজ করছে।

১. অতিরিক্ত মানসিক চাপ - দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বেড়ে যায়। এই হরমোন টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত করে, যা সরাসরি শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

২. অনিয়মিত ঘুম - পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম না হলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। নিয়মিত রাত জাগা বা কম ঘুম পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা কমাতে পারে।

৩. ধূমপান - সিগারেটের নিকোটিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর সংখ্যা কম হওয়ার পাশাপাশি গুণগত মানও দুর্বল হয়।

৪. অতিরিক্ত মদ্যপান - দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করলে লিভার ও হরমোন সিস্টেমের ওপর চাপ পড়ে। এর ফলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায় এবং শুক্রাণু উৎপাদন হ্রাস পায়।

৫. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস - ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার ও প্রসেসড খাবার শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গঠন দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৬. স্থূলতাভ - অতিরিক্ত ওজন বা পেটের মেদ শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে পুরুষ হরমোনের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয় এবং শুক্রাণু কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

৭. মোবাইল ও ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহার -
দীর্ঘ সময় কোলে ল্যাপটপ রাখা বা পকেটে মোবাইল রাখা অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত তাপ শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর।

৮. পরিবেশ দূষণ - বাতাস, জল ও খাবারের মাধ্যমে শরীরে ঢোকা বিষাক্ত রাসায়নিক ও ভারী ধাতু প্রজনন ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী পুরুষদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

৯. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - দীর্ঘদিন স্টেরয়েড, কেমোথেরাপি বা কিছু হরমোনজাত ওষুধ ব্যবহার করলে শুক্রাণু উৎপাদন সাময়িক বা স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে।

১০. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা - ব্যায়ামের অভাব রক্ত সঞ্চালন ও হরমোনের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করে। নিয়মিত হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম না করলে শুক্রাণুর গুণমান কমতে পারে।

ছেলেদের শুক্রাণু কমে যাওয়া কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও পরিবেশগত প্রভাবের ফল। জীবনযাপনে ছোট পরিবর্তন, যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
অল্প বয়সে চুল পাকা সমস্যা কমাতে ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নিলেই ধীরে ধীরে ফিরতে পারে চুলের স্বাভাবিক রং ও স্বাস্থ্য
রুটির বদলে সঠিক শস্য বেছে নিলে পেটের মেদ কমানো সম্ভব
বিশ্বের বৃহৎ ১০টি তেলের ভাণ্ডারে কোন দেশে কতটা খনিজ তেল মজুত রয়েছে, তা নিয়েই বিশেষ প্রতিবেদন
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো