6997f0e9b5546_Gallery_1771565094141
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ দুপুর ০২:০১ IST

ক্ষতিকারক রং নয় ভেষজ আবীর দিয়েই হোক এবারের দোল , উৎসবের মরশুমে ভরিয়ে তুলুন নিজের পকেট

নিজস্ব প্রতিনিধি ,  কলকাতা - বসন্ত উৎসব হোক বা ভোটের উৎসব  , আবিরের ব্যবহার ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাসায়নিক রঙের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতা বাড়ায় ভেষজ আবিরের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাকৃতিক ফুল, গাছের পাতা ও ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি এই আবির ত্বকের জন্য নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব। ফলে ভেষজ আবিরের ব্যবসা এখন একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে উঠে এসেছে।

এই ব্যবসা এখন লাভজনক হওয়ার প্রধান কারণ হল গ্রাহকদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা। বিশেষ করে হোলির বা  বসন্ত উৎসবের সময়ে বাজারে রাসায়নিক আবিরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে—ত্বকে অ্যালার্জি, চোখে জ্বালা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তার বিপরীতে গাঁদা, পলাশ, হলুদ, বিট, নিমপাতা ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ভেষজ আবির নিরাপদ ও ত্বকবান্ধব। এছাড়া জৈব ও হ্যান্ডমেড পণ্যের প্রতি শহর ও মফস্বলের ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সহজেই বড় বাজারে পৌঁছনো যায়, যা এই ব্যবসাকে আরও লাভজনক করে তুলছে।

ভেষজ আবিরের ব্যবসা শুরু করতে বড় পুঁজির প্রয়োজন হয় না। প্রথমে প্রয়োজন কাঁচামাল সংগ্রহ—শুকনো ফুল, ভেষজ গুঁড়ো, কর্নস্টার্চ বা অ্যারারুট পাউডার। ফুল শুকিয়ে ভালোভাবে গুঁড়ো করে বেস উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে প্রাকৃতিক রং তৈরি করা যায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিষ্কার পরিবেশে উৎপাদন করা জরুরি। ছোট আকারে বাড়িতেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব। এরপর প্যাকেজিং গুরুত্বপূর্ণ—আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেট ব্যবহার করলে ক্রেতার আগ্রহ বাড়ে। স্থানীয় লাইসেন্স ও ট্রেড রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেওয়া উচিত।

আয়–ব্যয়ের হিসাব করলে দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। কাঁচামাল, প্যাকেজিং ও মার্কেটিং মিলিয়ে প্রথম পর্যায়ে এই বিনিয়োগ লাগে। প্রতি কেজি ভেষজ আবির তৈরিতে খরচ পড়তে পারে ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে, যা খুচরো বাজারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা যায়। অর্থাৎ সঠিক বিপণন হলে ভালো লাভের সম্ভাবনা থাকে।  উৎসবের মরসুমে বিক্রি বেশি হলেও সারা বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চাহিদা বজায় থাকে।

বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজার, মেলা, হস্তশিল্প প্রদর্শনী ও পুজো–উৎসবের স্টলে অংশ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন প্রচার করলে সরাসরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছনো যায়। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মেও পণ্য তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে ভেষজ আবিরের ব্যবসা স্বল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাড়তি চাহিদার কারণে এটি লাভজনক উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, মান বজায় রাখা ও কার্যকর বিপণন কৌশল থাকলে এই ব্যবসায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব।