691ee8cfbe2db_download (1)
নভেম্বর ২০, ২০২৫ দুপুর ০৩:৫৮ IST

বাড়ির উঠোনে বা বাড়ির ছাদে চাষ করে ফেলুন সবুজ সোনা অ্যাজোলা

নিজস্ব প্রতিনিধি , বোলপুর - আজোলা বা অ্যাজোলা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর জলজ ফার্ন, যাকে বলা হয় “সবুজ সোনা”। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন এটি পশুখাদ্য, হাঁস-মুরগির খাবার, মাছের খাবার এবং জৈবসার তৈরির কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। খুব অল্প মূলধনে, কম পরিশ্রমে এবং অল্প জায়গায় আজোলা চাষ করে নিয়মিত আয় করা সম্ভব।

আজোলা কেন লাভজনক - আজোলার মধ্যে ২০–৩০% প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি১২, ক্যালসিয়াম, আয়রনসহ বিভিন্ন মিনারেল থাকে। গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও মাছ—সবাইয়ের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী খাদ্য। পাশাপাশি আজোলা দ্রুত বাড়ে, দিনে প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে। তাই অল্প খরচে বেশি উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এটি একটি লাভজনক ব্যবসা।

চাষের জন্য কী কী লাগবে - 

১. জায়গা/পিট: বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বাগান—যে কোনো সমতল জায়গায় ৬×৪ বা ৮×৪ ফুট মতো পিট তৈরি করা যায়।
২.  পলিথিন শিট: পিটে জল ধরে রাখতে মোটা সিলভার বা কালো পলিথিন।
৩.  জৈবসার: গরুর গোবর বা কম্পোস্ট সার।
৪.  ফসফেট সার: মাঝে মাঝে বর্ধনের জন্য।
5.  স্টার্টার আজোলা: প্রথমবার ১–২ কেজি নিলেই যথেষ্ট।
৬. জল: পরিষ্কার স্থির জল, গভীরতা ৮–১২ ইঞ্চি।

চাষের ধাপ - 

১. পিট তৈরি
নির্দিষ্ট মাপের গর্ত করে পলিথিন বিছিয়ে চারপাশে মাটি চেপে ধরে দিন। যাতে পিট থেকে জল বের না হতে পারে।

২. সার মেশানো
পিটে জল ভরার পর প্রতি ১০০ বর্গফুটে ২–৩ কেজি গোবর বা কম্পোস্ট সার মিশিয়ে দিন। এতে আজোলার পুষ্টি যোগান সহজ হয়।

৩. স্টার্টার আজোলা ছড়ানো
জল স্থির হলে আজোলা ছড়িয়ে দিন। সাধারণত ৩–৪ দিনের মধ্যে বৃদ্ধি শুরু হয় এবং ১০–১৫ দিনে পুরো পিট ভরে ওঠে।

4. পরিচর্যা
  – দুপুরের প্রচণ্ড রোদে ছায়া দেওয়া ভালো, না হলে আজোলা পুড়ে যেতে পারে।
  – জল কমে গেলে বাড়িয়ে দিন, অতিরিক্ত নোংরা হলে কিছু জল বদলে নিন।
  – সপ্তাহে একদিন অল্প পরিমাণ সুপার ফসফেট দিলে বৃদ্ধির হার বাড়ে।
  – পিটে পোকামাকড় বা শামুক থাকলে তুলে ফেলে দিন।

একটি মাঝারি আকারের পিট থেকে দিনে ১–৩ কেজি পর্যন্ত আজোলা সংগ্রহ করা যায়। পিট বেশি হলে উৎপাদনও বাড়বে। সংগ্রহ করা আজোলা ঝরঝরে করে সরাসরি পশুকে খাওয়ানো যায় অথবা শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।

বিক্রি ও আয়ের উপায়

পশুপালন প্রচুর হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে আজোলার ভালো বাজার তৈরি হচ্ছে। আয়ের কয়েকটি উপায়—

১. পশুখাদ্য হিসেবে বিক্রি
গ্রামাঞ্চলে ও খামারিদের কাছে তাজা আজোলা সহজে বিক্রি করা যায়। ১ কেজির দাম সাধারণত ১৫–৩০ টাকা পর্যন্ত হয়।

২. মাছের খাবার
মাছচাষ প্রচুর হওয়ায় আজোলার চাহিদা খুব বেশি। পুকুরে আজোলা দিলে মাছ দ্রুত বাড়ে, তাই চাষীদের কাছে এটি জনপ্রিয়।

৩. শুকনো আজোলা বা পাউডার বিক্রি
আজোলা রোদে শুকিয়ে বা পাউডার বানিয়ে প্যাকেটজাত করলে দামের পরিমাণ বাড়ে। শুকনো আজোলা সাধারণত ৮০–২০০ টাকা/কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়।

৪. স্টার্টার আজোলা বিক্রি
অনেকেই নতুন করে আজোলা চাষ শুরু করতে চান, তাই স্টার্টার সাপ্লাই দিয়েও ভালো আয় করা যায়।

খরচ ও লাভ - একটি পিট তৈরি করতে ৮০০–১৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। মাসে প্রতিটি পিট থেকে প্রায় ১৫০০–৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। পিট সংখ্যা বাড়ালেই আয় বহুগুণে বাড়বে।

আজোলা চাষ পশ্চিমবঙ্গের কৃষক, গৃহস্থ বা ক্ষুদ্র উদ্যোগীদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ব্যবসা। কম জমি, কম খরচ ও কম পরিশ্রমে নিয়মিত আয়ের পথ খুলে দেয়। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ধরে রাখতে পারলে আজোলা চাষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি লাভ নিশ্চিত।

TV 19 Network NEWS FEED