নিজস্ব প্রতিনিধি , বোলপুর - পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পশুপালন। এর মধ্যে ছাগল প্রতিপালন একটি লাভজনক ও সহজ উপায় হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। অল্প মূলধন, সীমিত জমি এবং কম পরিশ্রমে এই ব্যবসা শুরু করা যায়। গ্রামীণ গৃহস্থদের জন্য এটি অতিরিক্ত আয়ের একটি বড় উৎস। ছাগলের দুধ, মাংস, চামড়া ও গোবর—সবকিছুরই বাজারে মূল্য রয়েছে। তাই অনেক বেকার যুবক, কৃষক ও মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী আজ ছাগল প্রতিপালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
কিভাবে করব - ছাগল প্রতিপালন শুরু করার আগে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ নেওয়া দরকার। প্রথমে স্থান নির্বাচন করতে হবে—যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, শুকনো ও উঁচু জায়গা থাকবে। ছাগলের জন্য আলাদা ঘর বা ছাউনি তৈরি করতে হবে যাতে বৃষ্টি ও ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শুরুতে ৫–১০টি ছাগল নিয়ে কাজ শুরু করা ভালো। প্রতিদিন পরিষ্কার জল , সবুজ ঘাস, শুকনো খড়, ডালজাতীয় খাবার ও খৈল খাওয়ানো দরকার। নিয়মিত পশুচিকিৎসকের পরামর্শে টিকা দেওয়া ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। ছাগলের বাচ্চাদের আলাদা করে যত্ন নেওয়া উচিত, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। বর্তমানে জেলা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের তরফ থেকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কি কি ধরনের ছাগল প্রতিপালন করা হয় - পশ্চিমবঙ্গে মূলত তিন–চার ধরনের ছাগল বেশি দেখা যায়। যেমন—ব্ল্যাক বেঙ্গল, জামুনাপাড়ি , বিটল ও সিরোহি প্রজাতি। এর মধ্যে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব জাত এবং এটি মাংস, দুধ ও চামড়ার জন্য বিখ্যাত। এদের ছোট আকার হলেও উৎপাদনক্ষমতা অনেক বেশি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো। জামুনাপাড়ি ছাগল দুধ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত, আর বিটল জাত মাংসের জন্য জনপ্রিয়। ছাগলের জাত নির্বাচন নিজের উদ্দেশ্য ও এলাকার আবহাওয়া অনুযায়ী করতে হবে।
কি কি লাগে - ছাগল প্রতিপালনের জন্য প্রথমেই দরকার জমি ও আশ্রয়স্থল। ১০টি ছাগল পালনের জন্য প্রায় ৪০০–৫০০ বর্গফুট জায়গা লাগে। এছাড়া প্রয়োজন হবে —
* ছাগল ঘর তৈরির জন্য বাঁশ, খড়, টিন বা কাঠ
* খাবারের জন্য ঘাসের চাষ বা শুকনো খাদ্য
* পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা
* টিকা ও চিকিৎসার জন্য পশু চিকিৎসকের পরামর্শ
* প্রজননের জন্য উপযুক্ত পুরুষ ছাগল
* প্রাথমিক মূলধন প্রায় ৩০,০০০–৫০,000 টাকা (ছাগলের সংখ্যা ও জাত অনুযায়ী)
লাভ ক্ষতির হিসাব - ছাগল প্রতিপালনে খরচ তুলনামূলকভাবে কম। একটি প্রাপ্তবয়স্ক ছাগল বছরে ২–৩টি বাচ্চা দিতে পারে। একেকটি ছাগল বাচ্চা ৪–৬ মাসের মধ্যে বিক্রির উপযুক্ত হয়। বাজারে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের দাম প্রায় ৮,০০০–১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যদি কেউ ১০টি ছাগল দিয়ে শুরু করেন, তবে এক বছরে মোট খরচ প্রায় ৬০,০০০–৭০,০০০ টাকা হতে পারে (খাদ্য, টিকা, আশ্রয়সহ)। কিন্তু বিক্রির মাধ্যমে আয় হতে পারে প্রায় ১,২০,০০০–১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ বছরে গড়ে ৫০,০০০–৭০,০০০ টাকা লাভ করা সম্ভব।
ছাগল প্রতিপালন পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলে স্বনির্ভর জীবিকা গড়ে তোলার একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এটি কৃষকের সহায়ক হিসেবে কাজ করে এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারের বিভিন্ন পশুপালন প্রকল্প ও ভর্তুকি পাওয়া যায়, যা নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেয়। সঠিক যত্ন, পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা বজায় রাখলে ছাগল প্রতিপালন একটি স্থায়ী ও লাভজনক পেশা হয়ে উঠতে পারে। তাই বলা যায়—“ছাগল প্রতিপালন শুধু পেশা নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতির এক শক্ত ভিত।”
চেক বাউন্স হলে আইনি নোটিস থেকে শুরু করে মামলা জরিমানা এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে
ডিফেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ কি ভবিষ্যতে বড় লাভের “টাকার খনি” হতে পারে, তা নিয়েই বিশেষ বিশ্লেষণ
অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসার নতুন দিশা—নার্সারি গড়ে ঘর থেকেই শুরু করুন নিশ্চিত আয়ের পথ।
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো