নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - রাতের নিস্তব্ধতায় কারও নাক ডাকার শব্দ অনেক সময় বিরক্তিকর হলেও, সেটি শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়—বরং শরীরের ভেতরের কোনও বড় বিপদের পূর্বাভাসও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ও জোরে নাক ডাকা অনেক ক্ষেত্রে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যার সঙ্গে জড়িত।

নাক ডাকা হয় কেন? সাধারণভাবে, ঘুমের সময় শ্বাসনালী আংশিকভাবে সংকুচিত হলে বাতাস চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। তখনই গলার টিস্যু কম্পিত হয়ে নাক ডাকার শব্দ তৈরি করে। মাঝে মাঝে ঠান্ডা, অ্যালার্জি বা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে নাক ডাকা স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে। কিন্তু যদি এটি প্রতিদিন হয়, জোরে হয় এবং ঘুমের গুণমান নষ্ট করে, তাহলে সেটি আর সাধারণ নয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া: নীরব শত্রু - ঘন ঘন নাক ডাকার সঙ্গে যদি রাতে শ্বাস থেমে যাওয়া, হঠাৎ দম বন্ধ হওয়ার অনুভূতি বা দিনে অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব দেখা যায়, তাহলে তা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থায় ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাসপ্রশ্বাস থেমে যায়, ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীর ওপর।

হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্ক - অক্সিজেনের ঘাটতি হলে হৃদপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন হলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে এবং ধমনীর ভেতরে ক্ষতি শুরু হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা না করা স্লিপ অ্যাপনিয়া করোনারি হার্ট ডিজিজ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই নাক ডাকা শুধু ঘুমের সমস্যা নয়, এটি হৃদরোগের সতর্ক সংকেতও হতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন - আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ যদি লক্ষ্য করেন—জোরে ও নিয়মিত নাক ডাকা, ঘুমের সময় শ্বাস থেমে যাওয়া, সকালে মাথাব্যথা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, সারাদিন ক্লান্তি বা মনোযোগের অভাব—তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এই লক্ষণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ঘুমের মধ্যে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না।

প্রতিরোধ ও করণীয় - হালকা নাক ডাকার ক্ষেত্রে কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন উপকার দিতে পারে। যেমন—ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পাশ ফিরে ঘুমানো, ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়ানো, নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা এবং শোবার ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখা। গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ঘুমের পরীক্ষা বা স্লিপ স্টাডি করার পর CPAP মেশিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা রাতে শ্বাসনালী খোলা রেখে অক্সিজেনের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা শুরু করার পর অনেক রোগীর রক্তচাপ স্বাভাবিকের দিকে ফিরে আসে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। এমনকি ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সমস্যার সঙ্গেও ঘুমের এই ব্যাঘাতের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

নাক ডাকা কখনও কখনও নিরীহ হলেও, সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি আপনার হৃদপিণ্ডের উপর বাড়তি চাপের বার্তা হতে পারে। সময়মতো সচেতন হলে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে শুধু ভালো ঘুমই নয়, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনও নিশ্চিত করা সম্ভব ।
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর