নিজস্ব প্রতিনিধি , নদীয়া - মহা শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে হাজার হাজার ভক্তের সমাগমে মুখরিত শিবনিবাস মন্দির। আধ্যাত্মিক পরিবেশের পাশাপাশি ভক্তসমাগমে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। ভক্তদের উপস্থিতিতে এলাকার আর্থিক কর্মকাণ্ডেও গতি এসেছে বলে মত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে , ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত এই তীর্থস্থানটি এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গের জন্য সুপরিচিত। ১৮শ শতকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় এই ঐতিহাসিক মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কথিত আছে, বর্গি আক্রমণের সময় শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে কৃষ্ণনগর ছেড়ে শিবনিবাসে আশ্রয় নেন তিনি। সেই সময় চূর্ণী নদীর ধারে নির্মাণ করেন ৩টি দেবালয়। ২টিতে স্থাপন করা হয় শিবলিঙ্গ, অপরটিতে রাম-সীতার প্রতিমা।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, পরবর্তীতে তিনি মানত করেছিলেন দস্যু নসরৎ খাঁকে যুদ্ধে পরাস্ত করতে পারলে শিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে উপবাস করে পূজা দেবেন। জয়লাভের পর সেই প্রথা আজও অটুট। প্রতি বছরই এই তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আচার, বসে মেলা। ছুটে আসেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। ভক্তদের একাংশ বাঁকে করে জল নিয়ে শিবলিঙ্গে জল ঢালেন। আবার কেউ মনস্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে দণ্ডি কেটে মন্দিরে উপস্থিত হন।
পঞ্জিকা মেনে নির্দিষ্ট লগ্নে উপবাস ও ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে চলে পূজা-অর্চনা। উল্লেখ্য, শুধু শিবনিবাস নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা একাধিক প্রাচীন শিবমন্দিরে এদিন উপচে পড়ছে পুণ্যার্থীদের সমাগম। টেরাকোটার নকশায় সুসজ্জিত দেবালয়গুলোতেও দেখা গেছে উৎসবের আবহ।

মন্দিরের পূজারী স্বপন ভট্টাচার্য জানান, 'শিবরাত্রি রাত ছাড়া হয় না। পঞ্জিকা মতে, রবিবার বিকেল ৪টে ৪৯ মিনিট থেকে সোমবার ভোর ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চতুর্দশী তিথি। বৈষ্ণব মতে সোমবার পালন করা হয়। ২৭২ বছর ধরে পূজিত হয়ে আসছেন বাবা। সহযোগিতার জন্য জেলা পুলিশ, প্রশাসন রয়েছেন। সকলকে আসার জন্য স্বাগত জানাচ্ছি'।
পুণ্যার্থী সংগীতা দাস জানায়, 'আমি প্রত্যেক বছর এখানে আসি। মহা শিবরাত্রির দিন শিবের আরাধনা করলে ভগবান সন্তুষ্ট হন। মনস্কামনা পূরণ হয়। তাছাড়া এখানে এলে এক আলাদা শান্তি অনুভব করি'।
আধ্যাত্মিক পরিবেশের পাশাপাশি ভক্তসমাগমে এদিন আশ্রম প্রাঙ্গণে দেখা গেল ভক্তিমুখর উচ্ছ্বাস
আধ্যাত্মিক পরিবেশের পাশাপাশি ভক্তসমাগমে উৎসবের উচ্ছ্বাস তুঙ্গে
যুগের পর যুগ ধরে ভক্তরা বিশ্বাস করে আসছেন যে তাঁর নাম স্মরণ করলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয়
ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের উপস্থিতিতে এলাকা জুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে
আধ্যাত্মিক পরিবেশের পাশাপাশি ভক্তসমাগমে উৎসবের উচ্ছ্বাস তুঙ্গে
ভালোবাসা আর রঙিন পাপড়ির মেলবন্ধনে জমে উঠেছে এলাকা
সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে বার্তা তারেকের
হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম রমজান মাস
যৌন কেলেঙ্কারির ছায়া ব্রিটেনের রাজ পরিবারের ওপর
৩ দিনের ভারত সফরে ম্যাক্রোঁ