নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি অহিংসা , যা উপনিষদ, বেদান্ত এবং বৌদ্ধ–জৈন দর্শনেও প্রতিফলিত। প্রাণীহত্যা কমানোর নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিরামিষভোজনকে পবিত্র বলে ধরা হয়। গীতায় কৃষ্ণ বলেছেন, “যে আহার সত্ত্বগুণকে বৃদ্ধি করে, সেই খাদ্যই উত্তম।” নিরামিষ খাদ্যকে সত্ত্বিক খাদ্য বলা হয়—যা মনকে পরিষ্কার, শান্ত ও স্থির করে। এর বিপরীতে মাছ–মাংসকে রজোগুণ বা তমোগুণের বাহক ধরা হয়, যা অশান্তি, উত্তেজনা বা আক্রমণাত্মক মনোভাব বাড়াতে পারে বলে বিশ্বাস।
আধ্যাত্মিক সাধনা ও শুদ্ধতার ধারণা - হিন্দু সাধকরা মনে করেন, শরীর ও মনকে শুদ্ধ না করলে দেবতার সঙ্গে যোগ স্থাপন করা যায় না। তাই অনেক ঋষি–মুনি সুষম নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করতেন। যোগশাস্ত্রেও বলা আছে—ভারী, অতিরিক্ত ঝাল–তেল বা প্রাণীজ খাদ্য ধ্যান ও প্রাণায়ামের পথে বাধা সৃষ্টি করে। নিরামিষ খাদ্য হালকা, দ্রুত হজমযোগ্য এবং আধ্যাত্মিক একাগ্রতা রক্ষা করতে সহায়ক।
পুজোর প্রাক্কালে নিরামিষ খাওয়ার প্রচলন কয়েকটি কারণে —
1. শুচিতা ও পবিত্রতার প্রতীক
পূজো মানে দেবতার আহ্বান, আর দেবতার সামনে নিজেকে পবিত্র ও নিয়ন্ত্রিত রূপে উপস্থিত করা। নিরামিষ খাদ্যকে শুচিতা ও সংযমের প্রতীক মনে করা হয়। পুজোর আগে মাংস বা মদ্যপান এড়িয়ে চলা তাই আত্মনিয়ন্ত্রণের অংশ।
2. সত্ত্বিক পরিবেশ তৈরি
উৎসবের আগে বাড়িতে পরিচ্ছন্নতা, শান্তি ও ভক্তিময় পরিবেশ তৈরি করা হয়। নিরামিষভোজন সেই মনোভাবকে আরও দৃঢ় করে।
3. অনেক দেবতার প্রতি রীতি
লক্ষ্মী, গণেশ, দুর্গা, সরস্বতী, বিষ্ণু প্রভৃতি দেবদেবীর পূজায় নিরামিষ খাবারই মান্য। এই দেবতারা সত্ত্বিক গুণের প্রতীক, তাই রসনার সংযম পূজার একটি অংশ।
4. উপবাস–ব্রত ও শারীরিক শৃঙ্খলা
পুজোর আগে অনেকেই উপবাস বা নিষ্ঠ ব্রত মানেন। উপবাসের সঙ্গে নিরামিষ খাদ্য সহজে মিলেমিশে যায়। মাংসজাত খাদ্য হজমে সময় নেয়, তার পরিমাণ কমালে দেহ হালকা থাকে—পুজোর দিনগুলোতেও ব্যস্ততা সামলাতে সুবিধা হয়।
প্রাচীন স্বাস্থ্যচর্চায় কি বলেছে - আয়ুর্বেদের মতে, নিরামিষ খাদ্যে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন ও প্রাকৃতিক গুণ থাকে। এগুলো রক্তশুদ্ধি, হজম এবং দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অতীতে মাংস সংরক্ষণ সহজ ছিল না; গরম আবহাওয়ায় তা দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও ছিল। তাই উৎসবের সময়ে নিরামিষ খাওয়া ছিল নিরাপদ ও ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত।
বাংলা ও ভারতের বহু অঞ্চলে পূজাকে ঘিরে পরিবার–সমাজে একধরনের পবিত্রতা পালন করা হয়। যেসব খাবার সবাই মিলে ভাগ করে খেতে পারে, সেসবই গুরুত্ব পায়—আর নিরামিষ খাবার সেই ঐক্যকে সহজ করে। মন্দিরে প্রসাদও তাই সর্বজন-গ্রাহ্য নিরামিষ।
হিন্দু ধর্মে নিরামিষ খাওয়া কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়—এ একটি জীবনদর্শন, যা সংযম, শুচিতা, শান্তি এবং প্রাণের প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা বহন করে। পুজোর আগে নিরামিষ খাওয়ার রীতিও এই আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দর্শনেরই অংশ, যার উদ্দেশ্য মনকে সংহত করা, পরিবেশকে পবিত্র রাখা এবং দেবতার প্রতি নিবেদিত ভক্তিকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া।
বাড়িতে বসেই অনলাইনে যাচাই করুন স্ট্যাটাস
নিরাপত্তার জন্য পোশাক ব্যবহারে নজরদারি
জিও আর এয়ারটেল গ্রাহকদের জন্য এসেছে বিশেষ ব্যবস্থা
যোগ্য মহিলারা ধাপে ধাপে পাবেন সরকারি সুবিধা
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে বাড়তে পারে পিগমেন্টেশন
শিবের কৃপা পেতে জেনে নিন কী কী এড়িয়ে চলবেন
নতুন নিয়মে বদল আর্থিক পরিষেবার একাধিক ক্ষেত্রে
এলপিজির পর এবার নজর পেট্রোল ডিজেলে
সঠিক ব্যবহার আর ছোট কিছু অভ্যাসেই বাড়বে চার্জারের আয়ু
নির্দিষ্ট মাসিক কেনাকাটা পূরণ করলেই পাবেন নেটফ্লিক্স মোবাইল প্ল্যান
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে সাহায্যের সময় কী করবেন
অল্প টাকায় বড় সঞ্চয়ের পথ দেখাচ্ছে পোস্ট অফিস
বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়
স্মার্টফোন ব্যবহারেই বাড়ছে চোখের সমস্যা
কিছু নিয়ম মেনে চললেই ভালোবাসা আর কাজের মধ্যে থাকবে ভারসাম্য
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ফের সংঘর্ষের আবহ, পালটা আক্রমণেও সক্রিয় তেহরান
বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল শরণার্থী বোঝাই দু’টি নৌকা, মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও থাক...
দমন-পীড়নের অভিযোগে উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহ...
একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার সময় আচমকাই ভেঙে যায় একটি চেয়ার
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের