নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, সীমান্ত সংঘাত এবং প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ডিফেন্স সেক্টর আবারও বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে। ভারতের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতি, দেশীয় উৎপাদনে জোর এবং বড় অর্ডারের কারণে এই খাতের সংস্থাগুলির আয় ও শেয়ারদর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডিফেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে এই ধরনের ফান্ডে বিনিয়োগের আগে এর প্রকৃতি, সুবিধা ও ঝুঁকি বোঝা জরুরি।

ডিফেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড কী - ডিফেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড মূলত একটি থিম্যাটিক ফান্ড, যা প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের সংস্থাগুলির শেয়ারে বিনিয়োগ করে। এর মধ্যে থাকতে পারে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নির্মাতা, প্রতিরক্ষা যন্ত্রাংশ উৎপাদক, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান নির্মাণকারী সংস্থা, এমনকি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানি। এই ফান্ডগুলির পারফরম্যান্স অনেকটাই নির্ভর করে সরকারি প্রতিরক্ষা নীতি, বাজেট বরাদ্দ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বড় প্রকল্পের অর্ডারের উপর।
কেন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে - ভারত সরকার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিরও কাজের সুযোগ বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই খাতে ধারাবাহিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাছাড়া বিশ্ব রাজনীতির অনিশ্চয়তা ডিফেন্স সেক্টরকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আয়ের খাত হিসেবে তুলে ধরছে, যা বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে।
ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা - ডিফেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ঝুঁকি কম নয়। যেহেতু এটি একটি নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক ফান্ড, তাই বৈচিত্র্য কম থাকে। সরকারি নীতিতে পরিবর্তন, বাজেট কাটছাঁট, প্রকল্প বাতিল বা বিলম্ব হলে ফান্ডের রিটার্নে বড় প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া, ডিফেন্স সংস্থার শেয়ার অনেক সময় অতিরিক্ত মূল্যায়িত হয়ে যায়, ফলে হঠাৎ দরপতনের ঝুঁকিও থাকে। তাই স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই ফান্ড উপযুক্ত নাও হতে পারে।
কারা বিনিয়োগ করতে পারেন - যারা বাজারের ওঠানামা ধৈর্য ধরে দেখতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য ডিফেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড একটি বিকল্প হতে পারে। তবে মোট বিনিয়োগের একটি ছোট অংশই এই ধরনের থিম্যাটিক ফান্ডে রাখা বুদ্ধিমানের। পাশাপাশি, ফান্ডের পোর্টফোলিও, খরচের অনুপাত এবং ফান্ড ম্যানেজারের অভিজ্ঞতা যাচাই করা জরুরি।
ডিফেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড সম্ভাবনাময় হলেও এটি ঝুঁকিপূর্ণ থিম্যাটিক বিনিয়োগ। দেশের প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির গল্প আকর্ষণীয় হলেও, একক খাতের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই আবেগে নয়, নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকির ক্ষমতা এবং সময়সীমা বিবেচনা করেই এই ফান্ডে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো