নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - হাওড়ার বেলুড়ের সরু গলিতে আজও বাজির গন্ধ মিশে আছে স্মৃতির সঙ্গে। একসময় এখানেই চলত “বুড়িমা ফায়ারওয়ার্কস” — যার নাম শুনলেই মানুষ মনে করত উৎসব, পুজো আর শব্দের জাদু। কিন্তু সেই আলো শুরু হয়েছিল এক নারীর দৃঢ়তা থেকে—অন্নপূর্ণা দাস, যাকে সবাই চিনত “বুড়িমা” নামে।
দেশভাগের পরে পূর্ববাংলার ফরিদপুর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে ঠাঁই নিয়েছিলেন অন্নপূর্ণা দাস । স্বামী হারিয়ে, সংসারের ভার কাঁধে তুলে একাই লড়াই শুরু করেন তিনি। প্রথমে সেলাই, বিড়ি বানানো—যে কাজই পান, সেটাই করেন জীবিকার জন্য। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে নিয়ে যায় একেবারে অন্য পথে—বাজির জগতে।

তৎকালীন সময়ে বাজি তৈরির কাজ ছিল প্রায় পুরুষদের দখলে। অন্নপূর্ণা সেসব কারিগরের কাছ থেকে শিখে নেন মশলা মাপা, কাগজ মোড়ানো, সলতে বসানো—সব খুঁটিনাটি। তারপর নিজেই তৈরি করেন বাজি, আর নাম দেন “বুড়িমা ফায়ারওয়ার্কস”। খুব শিগগিরই তাঁর বানানো “চকলেট বোম” বাজি হয়ে ওঠে কালীপুজো আর দীপাবলির অন্যতম আকর্ষণ। শিশুরা যেমন মুগ্ধ হত এর ঝলক আর শব্দে, তেমনি বড়রাও বলতেন—“বুড়িমার বোম মানেই বাজির রাজা।”
বুড়িমার বাজি শুধু এক ব্যবসা ছিল না, ছিল এক নারীর আত্মসম্মানের প্রতীক। সমাজে যেখানে মহিলাদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ প্রায় ছিল না, সেখানে অন্নপূর্ণা দাস নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন একটি সফল ব্র্যান্ড। তাঁর কারখানায় কাজ পেত বহু নারী ও পুরুষ, যাদের জীবিকা নির্ভর করত এই ছোট্ট কারখানার ওপর।
তবে সময় বদলেছে। পরিবেশ দূষণ আর শব্দদূষণ রোধে সরকার যখন শব্দবাজি নিষিদ্ধ করে, তখন বুড়িমার চকলেট বোম হারিয়ে যায় বাজার থেকে। তবু “বুড়িমা” নামটা আজও টিকে আছে লোকমুখে—একটা ঐতিহ্যের মতো।
আজও হাওড়ার বেলুড়ে কিছু দোকানে মেলে “বুড়িমার বাজি”—অবশ্যই আইনসিদ্ধ, কম শব্দের, আলোকবাজি বা ফ্যান্সি বাজি আকারে। প্রতি বছর কালীপুজো আর দীপাবলির আগে সেই দোকানগুলিতে পুরনো ক্রেতারা যান, যেন ফিরে পান শৈশবের পুজোর গন্ধ।

“আমাদের ছোটবেলায় কালীপুজো মানেই বুড়িমার বোম। এখন তো শব্দবাজি নেই, কিন্তু নামটা শুনলেই একটা নস্টালজিয়া জেগে ওঠে,” বলেন স্থানীয় ক্রেতারা ।
বুড়িমা হয়তো আজ নেই, কিন্তু তাঁর বানানো আলো, সাহস আর ঐতিহ্য এখনও জ্বলে থাকে—প্রতিটি প্রদীপে, প্রতিটি বাজির ঝলকে।
এই বিশ্বজয় প্রমাণ করে যে কাজের মেধা আর লক্ষ্য স্থির থাকলে কোনো বাধাই বড় হয় না
এমনকি নারী শক্তির জয়গান গেয়ে তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন
তার এই অদম্য জীবনযুদ্ধ সাধারণ নারীদের নিজের পরিচয় গড়ে তোলার জন্য ক্রমশ শক্তি জোগাচ্ছে
যীশুর বার্তা ছড়াতে চাই দাবি পোপের
নাসার আর্তেমেসিস ২ চন্দ্র অভিযান শেষ হওয়ার পরেই ট্রাম্পের পোস্ট ব্যাপক আলোচনার...
অভিজ্ঞতাহীন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন
চুক্তি নিয়ে যদিও শুরু থেকে কোনো মাথাব্যথা ছিল না মার্কিন প্রেসিডেন্টের
জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এলাকায়