নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - চানাচুর জনপ্রিয় এক স্ন্যাকস, যা প্রায় সব বয়সী মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকে। চা, আড্ডা কিংবা অতিথি আপ্যায়নে চানাচুরের চাহিদা সর্বত্র। অল্প পুঁজিতে ঘরে বসে চানাচুর তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা যায়, যা একটি লাভজনক ক্ষুদ্র ব্যবসা হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বেকার যুবক বা গৃহিণীদের জন্য এটি একটি সহজ উপায়ে আয়ের উৎস হতে পারে।
চানাচুর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ - চানাচুর তৈরিতে খুব বেশি উপকরণ লাগে না এবং সবই স্থানীয় বাজারে সহজলভ্য। প্রধান উপকরণগুলো হলো—
1. ছোলার ডাল বা বুট ডাল
2. মুড়ি বা চিড়া
3. সেমাই বা ভাজা নুডলস
4. চিনাবাদাম
5. ভাজা মটর
6. তেল (সয়াবিন বা সরিষা তেল)
7. লঙ্কা গুঁড়া
8. বিট লবণ
9. হলুদ গুঁড়া
10. কারি পাতা, (স্বাদ অনুযায়ী)
প্রথমে ছোলার ডাল বা বুট ডাল ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর তেলে ভেজে খাস্তা করে রাখতে হবে। চিনাবাদাম, মটর, সেমাই ও মুড়িও আলাদা আলাদা করে ভেজে নিতে হবে। তারপর লঙ্কা গুঁড়া, বিট লবণ, হলুদ ও সামান্য তেল মিশিয়ে মসলার পেস্ট তৈরি করে সব ভাজা উপকরণের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা স্থানে কিছুক্ষণ রেখে শুকিয়ে নিলে চানাচুর আরও খাস্তা হবে। এরপর ওজন অনুযায়ী ছোট প্যাকেটে (৫০ গ্রাম, ১০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম) ভরে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করুন।
চানাচুরের বিভিন্ন ধরন তৈরি করে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বাজারজাত করা যায়। যেমন—
1. ঝাল চানাচুর
2. মিষ্টি চানাচুর
3. নোনতা চানাচুর
4. মিশ্র চানাচুর (ঝাল-মিষ্টি- নোনতা একসাথে)
5. ডায়েট চানাচুর (কম তেল ও লবণযুক্ত)
6. স্পেশাল চানাচুর (বিভিন্ন বাদাম ও মশলা মিশ্রিত)
ওই ব্যবসা শুরু করার ধাপ - অল্প পুঁজিতে চানাচুর ব্যবসা শুরু করতে বেশি মূলধনের প্রয়োজন হয় না। মাত্র ১০,০০০–৩০,০০০ টাকায় ঘরে বসেই শুরু করা যায়। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাজার থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে ঘরোয়া উপায়ে উৎপাদন শুরু করুন। এরপর প্যাকেটিংয়ের দিকে গুরুত্ব দিন—আকর্ষণীয় প্যাকেট ও নাম ব্যবহার করলে গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণ সহজ হয়। স্থানীয় দোকান, স্কুল-কলেজের ক্যান্টিন, চা স্টল, এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিক্রি করা যায়। ব্যবসা বড় হলে ট্রেড লাইসেন্স ও অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন।
লাভের হিসাব
উপাদান আনুমানিক খরচ (টাকা)
উপকরণ (ডাল, মুড়ি, বাদাম, মসলা) 100
তেল ও জ্বালানি 40
প্যাকেট ও শ্রম 20
মোট খরচ 160 টাকা/কেজি
বিক্রয় মূল্য 250–300 টাকা/কেজি
লাভ ৯০–১৪০ টাকা প্রতি কেজি
অর্থাৎ মাসে যদি ৫০ কেজি বিক্রি হয়, তাহলে ৪,০০০–৭,০০০ টাকার মতো লাভ সম্ভব, যা পরবর্তীতে বিক্রি বাড়লে আরও বৃদ্ধি পাবে।
ব্যবসার বিস্তার
1. স্থানীয় দোকান ও বাজারে সরবরাহ বাড়ানো।
2. নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করে প্যাকেটজাত বিক্রি।
3. ফেসবুক পেজ ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রচার।
4. নতুন স্বাদ ও আকারের পণ্য চালু করা।
5. পাইকারি বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বিতরণ চেইন তৈরি করা।
চানাচুর তৈরির ব্যবসা অল্প পুঁজি, সামান্য জায়গা ও কিছু পরিশ্রম দিয়েই শুরু করা সম্ভব। এতে ঝুঁকি কম, চাহিদা বেশি এবং লাভজনকতা নিশ্চিত। গুণগত মান বজায় রেখে ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করা গেলে এটি একটি সফল ক্ষুদ্র উদ্যোগে পরিণত হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, সৃজনশীলতা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই ছোট ব্যবসা একসময় বড় ব্র্যান্ডে রূপ নিতে পারে।
সোনা দীর্ঘদিন ধরে সেফ হেভেন অ্যাসেট হিসেবে পরিচিত
কোন সময় কোনটা ব্যবহার করব
তিন ধরনের ফান্ডের খুঁটিনাটি নিয়ে আজকের প্রতিবেদন
হামলার কথা স্বীকার ইজরায়েলের
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এয়ারবাসের
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
বিবৃতি জারি ট্রাম্প প্রশাসনের
আপাত বন্ধ স্কুল-অফিস