নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ভারতে সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী পেশা। এই চাকরি পেতে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। শিক্ষকতার স্তর অনুযায়ী (প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক) এবং বোর্ড অনুযায়ী (কেন্দ্রীয় বা রাজ্য) পরীক্ষার ধরন ভিন্ন হয়।

কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা -
১. CTET ( সেন্ট্রাল টিচার এলিজিবিটি টেস্ট )
CTET পরিচালনা করে CBSE । কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন স্কুল যেমন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় (KV) , নবোদয় বিদ্যালয় (JNV) ইত্যাদিতে শিক্ষকতার জন্য এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
CTET-এর দুটি পেপার রয়েছে —
পেপার I : শ্রেণি I–V (প্রাথমিক শিক্ষক)
পেপার II : শ্রেণি VI–VIII (উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক)
এই পরীক্ষায় শিশু বিকাশ ও শিক্ষাবিজ্ঞান, ভাষা, গণিত, পরিবেশ বিদ্যা বা বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন থাকে। CTET পাশ করা মানেই চাকরি নিশ্চিত নয়, তবে এটি একটি যোগ্যতা মানদণ্ড , যা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে আবেদন করার জন্য আবশ্যক।
২. KVS ও NVS নিয়োগ পরীক্ষা
কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংস্থান (KVS) ও নবোদয় বিদ্যালয় সমিতি (NVS) নিজস্ব নিয়োগ পরীক্ষা নেয় PRT, TGT ও PGT পদের জন্য। এই পরীক্ষাগুলিতে সাধারণ জ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও ভাষা দক্ষতা যাচাই করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে CTET উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা
১. WB TET ( ওয়েস্ট বেঙ্গল টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট )
পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক (শ্রেণি I–V) হওয়ার জন্য WB TET অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরিচালনা করে West Bengal Board of Primary Education (WBBPE) ।
এই পরীক্ষায় শিশু মনোবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, বাংলা/ইংরেজি ভাষা, গণিত ও পরিবেশ বিদ্যা থেকে প্রশ্ন আসে। WB TET পাশ করলে প্রার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারেন।
২. PTT ( প্রাইমারি টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট )
WB TET-এর পর রাজ্য সরকার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা করে ইন্টারভিউ ও মেধাতালিকা প্রকাশ করে। অনেক ক্ষেত্রে TET স্কোর, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ (D.El.Ed) মিলিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ হয়।
৩. SLST (স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্ট)
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকতার জন্য (WBSSC) পরিচালিত SLST পরীক্ষা দিতে হয়।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয়—
এসিস্ট্যান্ট টিচার (Class IX–X)
এসিস্ট্যান্ট টিচার (Class XI–XII)
পরীক্ষায় বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান ও কখনও কখনও ইন্টারভিউ অন্তর্ভুক্ত থাকে। যোগ্যতার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও B.Ed আবশ্যক।
৪. মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন -
পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্যাটার্ন অনেকটাই SSC পরীক্ষার মতো।
ভারতে সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতে হলে শুধু ডিগ্রি থাকলেই হয় না, বরং সঠিক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিয়মিত আপডেট থাকা জরুরি। কেন্দ্রীয় স্তরে CTET এবং রাজ্য স্তরে WB TET ও SLST—এই পরীক্ষাগুলিই শিক্ষকতার পথে প্রধান ধাপ। পরিকল্পিত পড়াশোনা ও ধৈর্য থাকলে এই সম্মানজনক পেশায় সফল হওয়া সম্ভব।
দীর্ঘ ই-মেলের সারাংশ এক নজরে দেখিয়ে পড়ার সময় ও ঝামেলা দুটোই কমাবে
এর ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে, জালিয়াতি কমবে বলেই মনে করছে শিক্ষা মহল
সময়ের মধ্যে আবেদন করে শিক্ষাবৃত্তির সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষা দফতর
অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসার নতুন দিশা—নার্সারি গড়ে ঘর থেকেই শুরু করুন নিশ্চিত আয়ের পথ।
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো