শ্রাবণ মাস অর্থাৎ বর্ষার শেষ দিকে বাংলার গ্রাম-শহর এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক উন্মাদনায় ভাসে। সেই সময়ে শুরু হয় মা মনসা দেবীর পূজা, যিনি হিন্দু পুরাণে শিবের কন্যা এবং সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে পরিচিত। মা মনসা ও সাপের রহস্যময় সম্পর্ক শুধু পৌরাণিক কাহিনী নয়, বরং বাংলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ভয়, ভক্তি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন।
মা মনসার পৌরাণিক গল্প: শিবের কন্যা ও সাপের রক্ষা-কর্ত্রী
মা মনসার জন্ম, পূজা ও মহিমা নিয়ে নানা পুরাণে ও স্থানীয় বিশ্বাসে নানা কাহিনী প্রচলিত। শিবপুরাণে মা মনসাকে শিবের কন্যা বলা হয়, যিনি মানুষের সুরক্ষা এবং বিশেষ করে সাপের বিষ থেকে রক্ষা করার জন্য বিশেষভাবে প্রভূত ক্ষমতাধর।
এক বিখ্যাত কাহিনী অনুযায়ী, শিব যখন তাণ্ডব নৃত্য করছিলেন, তখন তাঁর গলায় বসুকি সাপ ও শেশনাগ সাপরা অবস্থিত ছিল। শিবের অর্ধাঙ্গিনী বা কন্যা হিসেবে মা মনসার জন্ম সেই সাপদের নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়ে। তিনি সাপের কামড় থেকে মানুষকে রক্ষা করেন এবং এককালে সাপদের রাজার দায়িত্বও পালন করেন।
আরেকটি লোকমুখে প্রচলিত গল্পে বলা হয়, মানুষের ওপর সাপের ভয় ও আঘাত কমানোর জন্য মা মনসার আবির্ভাব ঘটে। তিনি সাপ ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলেন, যা আজও বাংলার গ্রামবাংলার লোকজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শিব ও সাপ: শক্তি, সময় ও পুনর্জন্মের প্রতীক
শিবের গলায় থাকা সাপের রহস্যপূর্ণ সম্পর্ক পুরাণে বিশেষ গুরুত্ব পায়। শেশনাগ, বসুকি ও অন্যান্য সাপ শিবের মহাশক্তি ও অমরত্বের প্রতীক। হাজার মাথার শেশনাগের প্রতিটি মাথা এক এক সময় বা চক্র নির্দেশ করে, যা মহাবিশ্বের চিরস্থায়ী পরিবর্তন ও পুনর্জন্মের ধারাকে প্রতিফলিত করে।
শিবের সাপ শুধু ভয়ঙ্কর নয়, বরং জীবন ও মৃত্যুর চক্রের আধিপত্যের প্রতীক। সাপের বিষ যেমন জীবন বিপন্ন করে, তেমনি তা চিকিৎসা ও পুনর্জীবনের শক্তিও বহন করে।
হিন্দু পুরাণে সাপের বিভিন্ন রূপ ও বৈশিষ্ট্য
পুরাণ মতে, সাপ বা ‘নাগ’ বহু রকমের। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
শেশনাগ: হাজার মাথার সাপরাজা, যিনি ব্রহ্মাণ্ডের তলদেশে বিশ্রাম করেন।
বসুকি: শিবের গলায় থাকা বিশাল কিং কোবরা সাপ, শক্তির প্রতীক।
কালকেতু: বিষাক্ত ও শক্তিশালী, রাক্ষসসাপ হিসেবে পরিচিত।
আনন্দ নাগ: শান্তিপূর্ণ ও আশীর্বাদ দানকারী সাপ।
দারিকা নগ ও উদ্দলাকেতু: যুদ্ধ ও রাক্ষস শক্তির সঙ্গে যুক্ত।
এসব সাপের মধ্যে অনেকেই দেবত্ব বহন করে, আবার কেউ কেউ শিবের শক্তির বিপরীত শক্তির প্রতীক।
বর্ষার সময় সাপের চলাচল ও মানুষের ভীতি: মা মনসার পূজার প্রয়োজনীয়তা
বর্ষাকালে সাপের চলাচল বাড়ে, ফলে সাপের কামড়ের শিকার হয় অনেক মানুষ। এই বাস্তব ভয় থেকে রক্ষা পেতে মা মনসার পূজা হয় বর্ষার শেষে বিশেষ উৎসবে। বাংলা, বিহার ও পূর্ব ভারতীয় অঞ্চলের গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত মা মনসার পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুজোর সময় নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়, যেখানে মা মনসার মূর্তি স্থাপন, পুজো, আরতি, গান ও নাটকের মাধ্যমে ভক্তি প্রকাশ পায়। এই পূজা শুধু সাপ থেকে রক্ষা নয়, বরং মানুষের জীবনে শান্তি, সৌভাগ্য ও স্বাস্থ্য কামনার প্রতীক।
মা মনসা ও সাপের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক
মা মনসার পূজার অন্যতম লক্ষ্য সাপের বিষ থেকে মানুষকে রক্ষা করা। শিবের কন্যা হিসেবে তাঁর এই দায়িত্বের পেছনে রয়েছে সাপ ও মানব সমাজের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক।
সাপ যেমন ভয়ঙ্কর ও বিষাক্ত, তেমনি তারা শিবের সঙ্গী ও শক্তির বাহক। মা মনসার মাধ্যমে এই দ্বৈত সম্পর্কটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তি হয়ে ওঠে। বাংলার গ্রামীণ জনজীবনে মা মনসা সেই শক্তির রূপ, যিনি সাপের ভয়ের মাঝে আশীর্বাদ বয়ে আনে।
শ্রাবণ মাসের শেষ দিকে মা মনসার আগমন শুধু একটি পূজা নয়, বরং শিবের কন্যার রূপে প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যকার চিরন্তন বন্ধনের পরিচয়। মা মনসা ও পুরাণীয় সাপদের কাহিনী বাংলার সংস্কৃতি, ভ্রাতৃত্ব, ভীতি ও ভক্তির মিলনে আজও জীবন্ত।
শিবের সাপের মতোই মা মনসা মানুষের জীবনের সুরক্ষা ও শক্তির প্রতীক, যার ছায়া বাংলার মাটি থেকে শুরু করে মানুষের হৃদয় পর্যন্ত বিস্তৃত।
গণপতি বাপ্পার আরাধনায় ভক্তিমুখর দেশ
গণেশ চতুর্থী উপলক্ষ্যে মূল আকর্ষণ ১১ কিলোর মিষ্টি
ভাদ্রপদ মাসের শনিবারে বিরল শনি অমাবস্যা কালো রঙের দান পূর্বপুরুষের তর্পণ আর মন্ত্রজপেই মিলবে মুক্তির আলো
পুরাণ, জ্যোতিষ আর লোকবিশ্বাসে আজকের রাত ভক্ত ও তান্ত্রিকদের কাছে এক ভয়ঙ্কর মহারাত্রি আজকের রাত শ্মশানের নীরবতার চেয়েও ভীতিকর
আরও কড়াকড়ি হবে গ্রিন কার্ড
মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে বানভাসি অবস্থা পাঞ্জাবে
ফের পাকিস্তানকে সতর্কবার্তা ‘মানবিক’ ভারতের
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করার দাবি ট্রাম্পের
গাজার হাসপাতালে হামলায় শোকপ্রকাশ করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী