নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - থেকে শীতকাল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি আনলেও ত্বক ও চুলের জন্য অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে খুশকি এই মৌসুমে এক সাধারণ ও বিরক্তিকর সমস্যা। মাথার ত্বক থেকে সাদা খোসার মতো খুশকি ঝরতে থাকলে তা যেমন দেখতে খারাপ লাগে, তেমনি চুলকানি, জ্বালা ও চুল পড়ার প্রবণতাও বাড়ায়। শীতকালে মাথার ত্বকের প্রকৃতিগত পরিবর্তন, পরিবেশের শুষ্কতা ও ভুল চুলের যত্ন খুশকির সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই খুশকি কেন হয় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় তা জানা জরুরি।
শীতকালে মাথায় খুশকি হওয়ার কারণ
১. শুষ্ক আবহাওয়া - শীতকালের বাতাস অত্যন্ত শুষ্ক থাকে। এর ফলে মাথার ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। স্ক্যাল্প যখন শুষ্ক হয়ে যায়, তখন ত্বকের ওপরের স্তর খসে পড়তে থাকে, যা খুশকির প্রধান কারণ।
২. গরম জল ব্যবহার - শীতে অনেকেই চুল ধোয়ার সময় অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করেন। গরম জল স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত নষ্ট করে দেয়, ফলে ত্বক আরও শুকিয়ে যায় এবং খুশকি বাড়ে।
৩. হিটারের প্রভাব - রুম হিটার বা ব্লো-ড্রায়ারের গরম বাতাস মাথার ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে। এর ফলে খুশকির পাশাপাশি স্ক্যাল্পে টান ধরা ও চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়।
৪. সেবোরিক ডারমাটাইটিস ও ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি - শীতের সময় কিছু মানুষের স্ক্যাল্পে তেলতেলাভাব বেড়ে যায়, যা ম্যালাসেজিয়া নামক ছত্রাকের বৃদ্ধি বাড়ায়। এর ফলে তৈলাক্ত খুশকি তৈরি হয়, যা সাধারণ খুশকির তুলনায় বেশি জেদি।
৫. অপরিচ্ছন্নতা ও ভুল চুলের যত্ন - অনিয়মিত চুল ধোয়া, নোংরা টুপি বা ওড়না ব্যবহার, বেশি রাসায়নিকযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার ইত্যাদি খুশকি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
খুশকি থেকে বাঁচার উপায় -
১. অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার - সপ্তাহে ২–৩ বার কেটোকোনাজল, জিংক পাইরিথিয়ন বা স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে খুশকি কমে।
২. কুসুম গরম জল ব্যবহার - অতিরিক্ত গরম জলের পরিবর্তে কুসুম গরম জল ব্যবহার করতে হবে। এতে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয় না।
৩. স্ক্যাল্পে প্রাকৃতিক তেল মালিশ - নারিকেল তেল, জলপাই তেল বা আমন্ড অয়েল সামান্য গরম করে স্ক্যাল্পে মালিশ করলে শুষ্কতা ও খুশকি অনেকটাই কমে।
৪. পর্যাপ্ত জল পান ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস - শীতেও পর্যাপ্ত জল না খেলে শরীর ও স্ক্যাল্প শুকিয়ে যায়। ভিটামিন-বি, ওমেগা-৩ এবং জিঙ্কযুক্ত খাবার স্ক্যাল্পকে পুষ্টি জোগায়।
৫. হিটার ও ব্লো-ড্রায়ার কম ব্যবহার - প্রয়োজনে কম তাপে ও অল সময় ব্যবহার করতে হবে, যাতে স্ক্যাল্প অতিরিক্ত শুকিয়ে না যায়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বালিশের কভার, চুল বাঁধার কাপড়, টুপি ইত্যাদি নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার রাখা উচিত।
শীতকালে খুশকি দেখা দিলেও এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা। সঠিক যত্ন, উপযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারে এবং স্ক্যাল্পকে আর্দ্র রাখার মাধ্যমে খুশকি সহজেই কমানো যায়। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই শীতেও চুল ও মাথার ত্বক থাকবে সুস্থ, আর আপনি পাবেন খুশকি-মুক্ত আত্মবিশ্বাস।
প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের মতো নানা কারণে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান ক্রমশ কমছে
সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
অল্প বয়সে চুল পাকা সমস্যা কমাতে ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নিলেই ধীরে ধীরে ফিরতে পারে চুলের স্বাভাবিক রং ও স্বাস্থ্য
রুটির বদলে সঠিক শস্য বেছে নিলে পেটের মেদ কমানো সম্ভব
বিশ্বের বৃহৎ ১০টি তেলের ভাণ্ডারে কোন দেশে কতটা খনিজ তেল মজুত রয়েছে, তা নিয়েই বিশেষ প্রতিবেদন
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো