নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - সেক্স বা যৌন সম্পর্ককে অনেক সময় শুধু আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা ও মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, পারস্পরিক সম্মতি ও সুস্থ সম্পর্কের মধ্যে নিয়মিত ও তুলনামূলক বেশি সেক্স মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি শুধু দাম্পত্য বা সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় না, বরং শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়াকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তবে এখানে “বেশি” বলতে অস্বাভাবিক বা বাধ্যতামূলক কিছু নয়—বরং বয়স, স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিক ও নিয়মিত যৌন জীবনকে বোঝানো হচ্ছে।

১. মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমায় - সেক্সের সময় শরীর থেকে অক্সিটোসিন, ডোপামিন ও এন্ডরফিন নামের “ভালো লাগার” হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনগুলো স্ট্রেস কমাতে, উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিষণ্নতার উপসর্গ হ্রাস করতে সাহায্য করে। নিয়মিত সেক্স মানসিক প্রশান্তি ও ইতিবাচক মুড বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

২. হৃদ্স্বাস্থ্য উন্নত করে - গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত যৌন সম্পর্ক হৃদ্যন্ত্রের জন্য হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামের মতো কাজ করে। এতে হৃদ্স্পন্দন বাড়ে, রক্তসঞ্চালন উন্নত হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকতে সাহায্য করে। ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক - নিয়মিত সেক্স করলে শরীরে ইমিউনোগ্লোবুলিন এ (IgA) নামের অ্যান্টিবডির মাত্রা বাড়তে পারে, যা সর্দি-কাশি ও সাধারণ সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ সুস্থ যৌন জীবন ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

৪. ঘুমের মান উন্নত করে - অর্গাজমের পর প্রোল্যাকটিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরকে শিথিল করে এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করে। যারা নিয়মিত সেক্স করেন, তাদের মধ্যে অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা তুলনামূলক কম দেখা যায়।

৫. সম্পর্ক ও দাম্পত্য বন্ধন মজবুত করে - নিয়মিত সেক্স পারস্পরিক আস্থা, যোগাযোগ ও আবেগীয় ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। এটি সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে বোঝাপড়া উন্নত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও সুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

৬. ব্যথা ও হরমোনজনিত সমস্যায় উপকার - সেক্সের সময় নিঃসৃত এন্ডরফিন প্রাকৃতিক পেইনকিলার হিসেবে কাজ করে। ফলে মাথাব্যথা, মাসিকের ব্যথা বা শরীরের হালকা ব্যথা কিছুটা কমতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায়ও সহায়ক হতে পারে।

বেশি বা নিয়মিত সেক্স কেবল শারীরিক তৃপ্তির বিষয় নয়; এটি মানসিক সুস্থতা, হৃদ্স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সম্পর্কের দৃঢ়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—পারস্পরিক সম্মতি, নিরাপত্তা ও সুস্থতা।
প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের মতো নানা কারণে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান ক্রমশ কমছে
সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
অল্প বয়সে চুল পাকা সমস্যা কমাতে ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নিলেই ধীরে ধীরে ফিরতে পারে চুলের স্বাভাবিক রং ও স্বাস্থ্য
রুটির বদলে সঠিক শস্য বেছে নিলে পেটের মেদ কমানো সম্ভব
বিশ্বের বৃহৎ ১০টি তেলের ভাণ্ডারে কোন দেশে কতটা খনিজ তেল মজুত রয়েছে, তা নিয়েই বিশেষ প্রতিবেদন
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো