68fe075e504b1_foods-increase-sperm-count-in-men
অক্টোবর ২৬, ২০২৫ বিকাল ০৫:০৫ IST

রোজকার পাতে এই খাবারগুলি থাকে তো? খেলেই তরতর করে বাড়বে শুক্রাণু

নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বর্তমান যুগে মানসিক চাপ, দূষণ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং অপ্রতুল পুষ্টির কারণে পুরুষদের প্রজননক্ষমতা হ্রাস পাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের পরিবর্তে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে শুক্রাণুর গুণগত মান ও সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। সঠিক পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, যা পুরুষদের প্রজননক্ষমতাকে প্রাকৃতিকভাবে উন্নত করে।

শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন সরবরাহ শুক্রাণু বৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি। নিচে এমন কিছু খাবারের তালিকা ও তাদের উপকারিতা তুলে ধরা হলো—

১. ডিম: ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ই এবং জিঙ্ক, যা শুক্রাণুকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করে।

২. আখরোট: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ আখরোট রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং শুক্রাণুর গতি (motility) উন্নত করে।

৩. ডার্ক চকোলেট: এতে থাকা এল-আর্জিনিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি।

৪. টমেটো:টমেটোতে থাকা লাইকোপেন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শুক্রাণুর গঠন ও গতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত কাঁচা টমেটো বা টমেটো জুস খাওয়া উপকারী।

৫. কলা: এতে রয়েছে ব্রোমেলিন এনজাইম, যা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৬. রসুন: রসুনে থাকা অ্যালিসিন রক্তপ্রবাহ উন্নত করে এবং শুক্রাশয়কে পুষ্টি সরবরাহে সহায়তা করে।

৭. সবুজ শাকসবজি: বিশেষ করে পালং শাক ও কলমি শাকে ফোলেট বা ভিটামিন বি৯ প্রচুর থাকে, যা শুক্রাণুর ডিএনএ সঠিকভাবে গঠনে সাহায্য করে।

৮. ডালিম:অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই ফলটি রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করে এবং শুক্রাণুর মান উন্নত করে।

৯. মাছ: স্যামন, টুনা, সারডিন প্রভৃতি সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে।

১০. জলপাই তেল: হৃদরোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি এটি রক্তসঞ্চালন উন্নত করে এবং শুক্রাণুর মান বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়াও শুক্রাণু বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখলে এর প্রভাব আরও কার্যকর হয়।

শুক্রাণু বৃদ্ধির জন্য কোনো তাৎক্ষণিক ওষুধের প্রয়োজন নেই, বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের মাধ্যমেই এটি সম্ভব। প্রকৃতির দেয়া পুষ্টিকর উপাদানই হতে পারে পুরুষ প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষার সর্বোত্তম উপায়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এসব উপাদান অন্তর্ভুক্ত করে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলে সুস্থ ও সক্ষম প্রজননশক্তি অর্জন করা সম্পূর্ণ সম্ভব।