নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন গ্রন্থ, প্রাচীন গণনা-পদ্ধতি ও বহু ব্যাখ্যার দেখা মেলে। এর মধ্যে “লাল কিতাব” বা Red Book বিশেষভাবে আলোচিত ও একই সঙ্গে বিতর্কিত একটি নাম। অল্প কথায়, এটি এমন এক জ্যোতিষগ্রন্থ যা প্রচলিত বৈদিক জ্যোতিষের থেকে ভিন্ন পথ দেখায় এবং তার সহজ প্রতিকার বা ‘টোটকা’-র কারণে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু কেন এই বইটিকে রহস্যময় বলা হয়? কারা এর রচয়িতা? এর বিধান কি সত্যিই কার্যকর? চলুন, সেই বহু আলোচিত প্রশ্নগুলোর দিকেই নজর দিই।
লাল কিতাব কেন রহস্যময়
লাল কিতাবকে অনেকেই রহস্যময় মনে করেন তার উৎস ও ব্যাখ্যার অস্বচ্ছতার জন্য। বইটিতে জ্যোতিষের নিয়ম ও যোগসমূহকে অত্যন্ত সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কিন্তু এর সূত্র অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত শাস্ত্রের সঙ্গে মেলে না। বিশেষ করে এর প্রতিকারগুলো — যেমন নির্দিষ্ট জিনিস দান করা, নদীতে কিছু ভাসানো, বিশেষ দিনে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা — এগুলোর উৎস ও যুক্তি নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এটি কখনও কখনও লোকাচার, কখনও জ্যোতিষ—দুটির মাঝামাঝি অঞ্চলে অবস্থান করে।
কে লেখেন লাল কিতাব
বিস্তৃতভাবে স্বীকৃত তথ্য অনুযায়ী, লাল কিতাবের প্রধান রচয়িতা পণ্ডিত রূপ চাঁদ জোশী (১৯৩০–১৯৫০ দশকে সক্রিয়) বলে মনে করা হয়। পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন খণ্ডে লিপিবদ্ধ এই গ্রন্থ ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পায়। তবে বইটির ভাষা, প্রতিকারের ধরন এবং স্থানীয় বিশ্বাসের প্রভাব—সব মিলিয়ে একে ঘিরে নানা জল্পনা রয়েছে, যা রহস্যময়তার কারণকে আরও ঘন করে তোলে।
লাল কিতাবের বিধান কি সত্যিই কাজ করে?
এ প্রশ্নের উত্তর জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাসের মাত্রা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। লাল কিতাবের প্রতিকারগুলো সাধারণত খুব সহজ, ব্যয়সাধ্য নয় এবং আচরণগত পরিবর্তনে জোর দেয়। অনেক অনুসারী দাবি করেন যে এগুলো তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দিক থেকে বলতে গেলে, এর কার্যকারিতা প্রমাণ করার কোনও স্পষ্ট গবেষণা নেই। জ্যোতিষের সার্বিক ক্ষেত্রের মতোই এখানে বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার ভূমিকা বেশি।
জ্যোতিষরা কী বলেন
অনেক আধুনিক জ্যোতিষ লাল কিতাবকে ‘অতিরিক্ত সরলীকৃত’ মনে করেন, আবার অনেকেই বলেন যে এর প্রতিকারগুলো মানসিক শক্তি ও আচরণগত উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। কেউ কেউ একে বৈদিক জ্যোতিষের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, আবার কেউ একে সম্পূর্ণ আলাদা ধারার শাস্ত্র বলে মূল্যায়ন করেন। তবু অস্বীকার করা যায় না—এর জনপ্রিয়তা আজও অটুট।
লাল কিতাবকে ঘিরে রহস্য, বিতর্ক, বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার মিশেল একে ভারতীয় জ্যোতিষের এক পৃথক অধ্যায়ে পরিণত করেছে। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত না হলেও, এর সহজ ভাষা ও জনগণের কাছে নাগালের প্রতিকারই এর মূল আকর্ষণ। লাল কিতাবে বিশ্বাস করুন বা না করুন—এটি যে ভারতীয় জ্যোতিষের সাংস্কৃতিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করেছে, তা নিঃসন্দেহে সত্য।
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো