নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহু এক রহস্যময় ছায়াগ্রহ, যার প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও জটিল। রাহুর মহাদশা সাধারণত ১৮ বছর দীর্ঘ হয়। এই সময়কাল জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন, উত্থান-পতন, বিভ্রান্তি, মোহ ও অস্থিরতা আনতে পারে। তবে রাহুর প্রকৃত প্রভাব সম্পূর্ণ নির্ভর করে জন্মছকে তার অবস্থান, রাশি, নক্ষত্র, যোগ ও দৃষ্টি সম্পর্কের উপর।
রাহুর প্রকৃতি ও প্রভাব - রাহু আসলে ভোগবিলাস, আকাঙ্ক্ষা, আধুনিকতা, রাজনীতি, বিদেশ, প্রযুক্তি, মিডিয়া, রহস্য, ধোঁকাবাজি, ও মায়ার প্রতীক। রাহুর প্রভাবে মানুষ প্রায়শই বাস্তবতা ও ভ্রান্তির মধ্যে পার্থক্য হারিয়ে ফেলে। সে সবসময় নতুন কিছু চায়, ঝুঁকি নিতে ভালোবাসে এবং প্রায়ই শর্টকাটে সাফল্য পেতে চায়।
যদি রাহু শুভ গ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয় (যেমন বুধ, শুক্র বা বৃহস্পতি), তবে এটি অসাধারণ সাফল্য, বিদেশে উন্নতি, রাজনীতি বা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে খ্যাতি দিতে পারে। কিন্তু যদি রাহু দুর্বল বা পাপগ্রহের প্রভাবে থাকে (যেমন শনির, মঙ্গলের বা সূর্যের দৃষ্টি বা সংযোগে), তবে এটি প্রতারণা, মানসিক চাপ, আইনি সমস্যা, দুর্ঘটনা, বা সামাজিক কলঙ্কও আনতে পারে।
রাহুর মহাদশায় সম্ভাব্য ফলাফল - কর্মজীবনে হঠাৎ উত্থান বা পতন। চাকরি পরিবর্তন, বিদেশে সুযোগ, প্রযুক্তি বা মিডিয়ায় প্রবেশ।ক্ষমতা অর্জন বা বিতর্কিত সাফল্য।
আর্থিক দিক - আকস্মিক অর্থপ্রাপ্তি বা ক্ষতি। বিনিয়োগে ভুল সিদ্ধান্তের আশঙ্কা। ভোগবিলাসে ব্যয় বৃদ্ধি।
পারিবারিক জীবন - দাম্পত্যে ভুল বোঝাবুঝি, সম্পর্কের অস্থিরতা। আত্মীয়দের সঙ্গে দূরত্ব বা মানসিক বিচ্ছিন্নতা।
স্বাস্থ্য - মানসিক চাপ, ভয়, উদ্বেগ, বা আসক্তির সমস্যা। স্নায়ু, শ্বাসযন্ত্র বা বিষক্রিয়াজনিত অসুখের ঝুঁকি।
আধ্যাত্মিক দিক - মায়া ও ভ্রান্তির মাধ্যমে আত্ম-অন্বেষণের সুযোগ। অনেক সময় রাহু মানুষকে “বাস্তবতার বাইরে” নিয়ে যায়, যাতে আত্ম-সচেতনতা জন্ম নেয়।
রাহুর মহাদশার প্রতিকার -
মন্ত্র ও উপাসনা - প্রতিদিন বা প্রতি শনিবার রাহু মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক — “ॐ भ्रां भ्रीं भ्रौं सः राहवे नमः” (Om Bhraam Bhreem Bhraum Sah Rahave Namah) অন্তত ১৮,০০০ বার জপ বা দৈনিক 108 বার জপ করলে ভালো ফল মেলে।
দেবতা পূজা - ভগবান শিব, দুর্গা ও ভৈরবের আরাধনা রাহুর দোষ প্রশমিত করে। “কালভৈরব” ও “সর্গা দুর্গা” মন্ত্রও বিশেষ ফলদায়ক।
দান ও সেবা - শনিবার বা রাহু কাল সময়ে কালো তিল, নীল বস্ত্র, সরষের তেল, বা কালো ডাল দান করা শুভ। কুকুর, ভিক্ষুক বা শ্রমিককে খাদ্য দান রাহুর কৃপা আনে।
রত্ন ও তাবিজ - জ্যোতিষ অনুমোদিত হলে “গোমেদ” (হেসোনাইট গারনেট) রত্ন পরা যেতে পারে। এটি রাহুর শক্তি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, তবে কেবল অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শে পরিধান করা উচিত।
আচরণগত প্রতিকার - মিথ্যা, প্রতারণা, নেশা, ও অশুচি কাজ থেকে বিরত থাকা। ধ্যান, যোগ, ও প্রার্থনা মনকে স্থির রাখে। অহংকার ও অতিবিশ্বাস থেকে দূরে থাকা জরুরি।
রাহুর মহাদশা জীবনের এক “পরীক্ষার সময়”—যেখানে মানুষ ভ্রান্তি ও বাস্তবতার পার্থক্য বুঝে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলে। এটি কেবল দুর্ভাগ্যের সময় নয়, বরং আত্ম-সচেতনতা ও নতুন সুযোগের পথও খুলে দেয়। সঠিক আচার-আচরণ, আধ্যাত্মিকতা, ও দানশীলতা রাহুর কঠোর প্রভাবকে আশীর্বাদে পরিণত করতে পারে।
হামলার কথা স্বীকার ইজরায়েলের
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এয়ারবাসের
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
বিবৃতি জারি ট্রাম্প প্রশাসনের
আপাত বন্ধ স্কুল-অফিস