নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বর্তমান যুগে খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বিকল্প কৃষি উদ্যোগের মধ্যে মাশরুম চাষ অন্যতম জনপ্রিয় একটি পেশা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। মাশরুম একটি পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যসম্মত এবং ঔষধিগুণসম্পন্ন খাদ্য। এটি প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামিনো অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, আবার এতে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের জন্য এটি নিরাপদ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। অল্প পুঁজি, স্বল্প জায়গা ও কম শ্রমে মাশরুম চাষ করে ভালো অর্থনৈতিক লাভ সম্ভব, যা বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ।
মাশরুম কি ? মাশরুম হলো এক ধরনের ছত্রাকজাত উদ্ভিদ (Fungus) যা মৃত জৈব পদার্থ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে বৃদ্ধি পায়। এটি ক্লোরোফিলবিহীন হওয়ায় নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। পৃথিবীতে প্রায় দুই হাজারের বেশি প্রজাতির মাশরুম পাওয়া যায়, তবে সবগুলো খাদ্যোপযোগী নয়। খাদ্যোপযোগী জাতগুলোর মধ্যে অয়েস্টার (Oyster), বাটন (Button) মাশরুম সবচেয়ে বেশি চাষ হয় ।
মাশরুম চাষের ধাপসমূহ -
১. উপযুক্ত স্থান নির্বাচন - মাশরুম চাষের জন্য এমন জায়গা বেছে নিতে হবে যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না এবং তাপমাত্রা ২০–৩০°C এর মধ্যে থাকে। ঘরটি হতে হবে পরিষ্কার, বাতাস চলাচলযোগ্য ও আর্দ্র। অতিরিক্ত গরম বা শুষ্কতা মাশরুমের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে।
২. কাঁচামাল সংগ্রহ - চাষের জন্য প্রয়োজন হয় খড় বা ধানের তুষ, গমের ভূষি, চুন, ইউরিয়া, পরিষ্কার পানি, পলিথিন ব্যাগ ও মাশরুমের বীজ বা স্পন (Spawn)। এগুলো সহজলভ্য এবং কম দামে পাওয়া যায়।
৩. কাঁচামাল প্রস্তুত করা - প্রথমে খড় বা তুষ একরাত জলে ভিজিয়ে রেখে পরদিন চেপে জল ঝরিয়ে নিতে হয়। এরপর প্রতি কেজি খড়ে প্রায় ১% চুন ও ১% ইউরিয়া মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়াতে হয়। তারপর রোদে বা ছায়ায় ৩–৪ ঘণ্টা শুকিয়ে নেওয়া হয়, যাতে ভেজা বা অতিরিক্ত শুকনো না থাকে।
৪. ব্যাগ প্রস্তুত করা - পলিথিন ব্যাগে পর্যায়ক্রমে এক স্তর খর ও এক স্তর স্পন ভরা হয়। প্রায় ৪–৫ ইঞ্চি পর পর স্পন মিশিয়ে ব্যাগের মুখ শক্ত করে বেঁধে দিতে হয়। ব্যাগে ছোট ছোট ছিদ্র করে দিলে বাতাস চলাচল সহজ হয়।
৫. ইনকিউবেশন (Incubation) - প্রস্তুত ব্যাগগুলো অন্ধকার ও আর্দ্র স্থানে ১৫–২০ দিন রাখতে হয়। এই সময় মাশরুমের ছত্রাক সাদা তুলার মতো হয়ে পুরো ব্যাগে ছড়িয়ে পড়ে। একে মাইসেলিয়াম বৃদ্ধি বলা হয়।
৬. ফল ধরানো (Fruiting) - ১৫–২০ দিন পর ব্যাগগুলো আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করতে হয়। তাপমাত্রা প্রায় ২৫°C ও আর্দ্রতা ৮০% রাখলে ছোট কুঁড়ি বা পিনহেড দেখা যায়।এই সময় দিনে দুই থেকে তিন বার জল স্প্রে করতে হয় ৭–১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মাশরুম তৈরি হয়, যা তখন সংগ্রহ করা যায়।
৭. সংগ্রহ ও সংরক্ষণ - টুপি সম্পূর্ণ খোলার আগেই মাশরুম কেটে নিতে হয়। সংগ্রহের পর ৪–৫ দিন ফ্রিজে রাখা যায় বা শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ সম্ভব।
লাভের হিসাব - মাশরুম চাষে অল্প পুঁজিতে বেশি মুনাফা অর্জন সম্ভব। এক কেজি মাশরুম উৎপাদনে যেখানে ৫০–৬০ টাকা খরচ হয়, বিক্রি করা যায় ২০০–৩০০ টাকায়। অনেক নারী উদ্যোক্তা ঘরে বসেই এটি চাষ করে স্বনির্ভর হচ্ছেন। দেশে ও বিদেশে এর বাজার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, ফলে রপ্তানির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
মাশরুম চাষে প্রধান সমস্যা হলো সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, মানসম্পন্ন স্পনের অভাব এবং বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতা। এসব সমস্যা দূর করতে আধুনিক পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা গ্রহণ জরুরি।
সব দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, মাশরুম চাষ এদেশের জন্য এক অত্যন্ত সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ। স্বল্প পুঁজিতে, অল্প পরিশ্রমে এবং কম সময়ে আয় করার উপযুক্ত মাধ্যম এটি। সঠিক প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে মাশরুম চাষ ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হামলার কথা স্বীকার ইজরায়েলের
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এয়ারবাসের
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
বিবৃতি জারি ট্রাম্প প্রশাসনের
আপাত বন্ধ স্কুল-অফিস