নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক ইতিহাসে যাদবপুর এক বিশেষ অধ্যায়। ১৯৬৭ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্র গঠনের পর থেকেই ধীরে ধীরে বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে গড়ে ওঠে এলাকা। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর সেই সংগঠন আরও মজবুত হয় এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা এই কেন্দ্র তাদের দখলেই থাকে। এই দীর্ঘ সময়কালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য একাধিকবার এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে যাদবপুরকে বাম রাজনীতির প্রতীকী আসনে পরিণত করেন।
কিন্তু ২০১১ - রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় মোড়। সেই বছরই পালাবদল ঘটে এবং প্রথমবারের মতো যাদবপুরে জয় পায় তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর ২০১৬-তেও তারা এই কেন্দ্র ধরে রাখে। ২০২১ সালের নির্বাচনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আবহে আবারও জোড়াফুল ফোটে যাদবপুরে। ফলে একদা লালদুর্গে ধীরে ধীরে সবুজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই যাদবপুর আবারও হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের কেন্দ্র। বাম শিবির তাদের হারানো জমি ফিরে পেতে প্রার্থী করেছে প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে। বামেদের আশা, ১৯৬৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত যে শক্ত সংগঠন ও আবেগ তৈরি হয়েছিল, তার কিছুটা হলেও এখনও ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হবে। পাশাপাশি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্মৃতিও তাদের প্রচারের বড় হাতিয়ার।
তবে বাস্তবের মাটিতে চ্যালেঞ্জ কম নয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার প্রেক্ষিতে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ ঘিরে বিতর্কের প্রভাব বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের প্রচারে কিছুটা হলেও পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার ২০১১-র পর থেকে তৈরি হওয়া সংগঠন এবং গত এক দশকের উন্নয়নমূলক কাজকে সামনে রেখে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। পানীয় জল প্রকল্প, নিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়ন, হাসপাতালের পরিকাঠামো বৃদ্ধি, রাস্তা ও যানজট সমস্যার সমাধান, এই সব ইস্যুতে কাজের রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরে ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে চাইছে শাসকদল। তাদের দাবি, ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১-এর ধারাবাহিক জয়ের ভিত্তিই এবার ২০২৬-এ বড় ফ্যাক্টর হবে।
তৃতীয় শক্তি হিসেবে বিজেপিও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে এই কেন্দ্রে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। ২০১৯, ২০২১ এবং পরবর্তী বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটের শতাংশ বৃদ্ধিতে তারা উৎসাহিত। ফলে এবারের লড়াই আর শুধুমাত্র দ্বিমুখী নয়, বরং ত্রিমুখী সমীকরণে আরও জটিল।
প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি ভোটার সমৃদ্ধ এই সম্পূর্ণ শহুরে কেন্দ্রে রাজনৈতিক সচেতনতা বরাবরই উচ্চ। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, ছাত্রসমাজ এবং উদ্বাস্তু কলোনির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, সব মিলিয়ে যাদবপুরের ভোটের চরিত্র আলাদা। এখানকার ভোটাররা অতীতের আবেগ যেমন মনে রাখেন, তেমনই বর্তমানের কাজের হিসেবও কষে দেখেন।
সব মিলিয়ে, ১৯৬৭ থেকে ২০২৬, প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক যাত্রায় যাদবপুর আবারও এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। লালদুর্গে কি ফিরবে পুরনো ইতিহাস, নাকি ২০১১-র পর গড়ে ওঠা নতুন সমীকরণই আরও শক্ত হবে, তার উত্তর লুকিয়ে ভোটারদের রায়ে।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে
ভোটের আগে শেষ রবিবার প্রচারে জোর বিজেপির
ভোটের মুখে ফের তৎপর ইডি
ভোটের দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত যান চলাচলে বিধিনিষেধ
অসুস্থ মহিলার পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজির
কলকাতার তিন থানায় ওসি বদল
আকাশে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি কমিশনের
মঞ্চ থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরব মমতা
৫ বছর পর ফের একই ছবি দেখা গেল
২৯৪ টি কেন্দ্রের জন্য আলাদা আলাদা পর্যবেক্ষক নিয়োগ
শনিবার রাজ্যে ৩ টি সভা করবেন রাহুল গান্ধী
একযোগে ৯ টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি
ভবানীপুর থেকে বিজেপিকে নিশানা মমতার
সাক্ষাৎকার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে
তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়...
সবমিলিয়ে, ভোটের আগে এই জনপদে রাজনৈতিক সমীকরণ এখন তুঙ্গে
৫ তারিখের পর অঙ্গ - বঙ্গ -কলিঙ্গে বিজেপি হবে , বার্তা অমিত শাহের
নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অনিদিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড রাখা হয়েছে তাকে
বৃহস্পতিবার অনিন্দ্য ব্যানার্জীর সমর্থনে রোড শো করেন অমিত শাহ