অক্টোবর ৩১, ২০২৫ দুপুর ০১:৫৮ IST

কোলেস্টেরল এ ভুগছেন? রোজকার জীবনে কিছু নিয়ম মেনেই হন কোলেস্টরল মুক্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বর্তমান যুগে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কোলেস্টেরল মূলত দুই ধরনের— এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) ও এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল)। শরীরে এলডিএল কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে রক্তনালীতে চর্বি জমে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। নিচে কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায় আলোচনা করা হলো যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

• খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন  আনতে হবে। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার যেমন ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, লাল মাংস, ঘি ও মাখন কম খাওয়া উচিত। এর পরিবর্তে রান্নায় জলপাই তেল, সরিষার তেল বা সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করা ভালো। আঁশযুক্ত খাবার যেমন ওটস, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া কোলেস্টেরল কমাতে বিশেষভাবে সহায়ক। আপেল, পেয়ারা, কমলা, গাজর ও ব্রকলির মতো খাবারে দ্রবণীয় আঁশ থাকে যা এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

* রসুন ও মেথি অত্যন্ত কার্যকর ঘরোয়া উপাদান। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে রক্তে চর্বির পরিমাণ কমে। মেথি ভিজিয়ে রেখে তার জল পান করলেও কোলেস্টেরল কমে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।

* গ্রিন টি ও লেবুর জল  নিয়মিত পান করা উপকারী। গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীর চর্বি জমতে দেয় না এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে। প্রতিদিন সকালে কুসুম গরম জলে এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয় ও কোলেস্টেরল কমে।

* নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা দৌড়ানোর অভ্যাস রক্তে ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়ায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমায়।

* ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা প্রয়োজন। এগুলো রক্তনালী সংকুচিত করে এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।

* পর্যাপ্ত জল খাওয়া ও পর্যাপ্ত ঘুমও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জল শরীরের বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে এবং ঘুমের অভাব হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা সবচেয়ে কার্যকর ঘরোয়া উপায়। নিয়মিত সচেতন থাকলে এই সমস্যা থেকে সহজেই দূরে থাকা সম্ভব।