নিজস্ব প্রতিনিধি , টোকিও - জাপান পৃথিবীর অন্যতম উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশ হলেও বর্তমানে দেশটি একটি গভীর জনসংখ্যাগত সংকটের মুখে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জন্মহার কমছে এবং মৃত্যুহার বাড়ছে। এর ফলে মোট জনসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে জনসংখ্যা দ্রুত বেড়েছিল। কিন্তু আশির দশকের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। শিল্পায়ন, নগরায়ন ও আধুনিক জীবনধারার ফলে পরিবার ছোট হতে থাকে। একই সঙ্গে নারীরা উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে বেশি যুক্ত হওয়ায় বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কঠোর কাজের সংস্কৃতি, যা পারিবারিক জীবনের জন্য সময় কমিয়ে দেয়।
বর্তমানে জাপানের জনসংখ্যা প্রায় প্রতি বছরই কমছে। জন্মের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। দেশটির বড় একটি অংশ এখন প্রবীণ জনগোষ্ঠী। গ্রামাঞ্চলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অনেক বাড়ি পরিত্যক্ত পড়ে আছে এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিল্প ও সেবাখাতে সংকট দেখা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
কেন জাপানিরা এখন সন্তান নিতে চাইছে না। এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, সন্তান লালন-পালনের খরচ অত্যন্ত বেশি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসনের ব্যয় অনেক দম্পতির জন্য চাপের কারণ। দ্বিতীয়ত, কাজের চাপ ও দীর্ঘ অফিস সময়ের কারণে পরিবারকে সময় দেওয়া কঠিন। বিশেষ করে নারীরা সন্তান নিলে কর্মজীবনে পিছিয়ে পড়বেন—এই আশঙ্কা কাজ করে। তৃতীয়ত, বিয়ের হার কমে যাওয়াও বড় কারণ, কারণ জাপানে বিয়ের বাইরে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা খুব কম।
এই সংকট মোকাবিলায় কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য আনা জরুরি। কর্মঘণ্টা কমানো, দূরবর্তী কাজের সুযোগ বাড়ানো এবং নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও নমনীয় পরিবেশ তৈরি করা দরকার। পাশাপাশি সন্তান পালনে সামাজিক সহায়তা ও পারিবারিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
জাপান সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শিশু ভাতা বাড়ানো, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ডে-কেয়ার সুবিধা, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো এবং শিক্ষাখাতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কিছু অঞ্চলে বাসস্থান ও কর ছাড়ের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে, যাতে তরুণ দম্পতিরা সন্তান নিতে উৎসাহিত হয়।
জাপানের জনসংখ্যা হ্রাস একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল সমস্যা। শুধু অর্থনৈতিক প্রণোদনা নয়, সমাজ ও কাজের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনলেই এর সমাধান সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়তে জাপানকে আরও সমন্বিত ও মানবিক উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের মতো নানা কারণে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান ক্রমশ কমছে
সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
অল্প বয়সে চুল পাকা সমস্যা কমাতে ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নিলেই ধীরে ধীরে ফিরতে পারে চুলের স্বাভাবিক রং ও স্বাস্থ্য
রুটির বদলে সঠিক শস্য বেছে নিলে পেটের মেদ কমানো সম্ভব
বিশ্বের বৃহৎ ১০টি তেলের ভাণ্ডারে কোন দেশে কতটা খনিজ তেল মজুত রয়েছে, তা নিয়েই বিশেষ প্রতিবেদন
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো