নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - আজকের দ্রুতগতির জীবনে ওজন কমানো ও সুস্থ থাকার নানা পদ্ধতির ভিড়ে “কিটো ডায়েট” একটি জনপ্রিয় নাম। সামাজিক মাধ্যমে একে কেউ দেখছেন ম্যাজিক ডায়েট হিসেবে, আবার কেউ বলছেন—এটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাহলে আসলে কিটো ডায়েট কী?

কিটো বা কেটোজেনিক ডায়েট হলো এমন এক খাদ্যপদ্ধতি, যেখানে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ খুব কম রাখা হয় এবং ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ানো হয়। সাধারণভাবে দৈনিক খাবারের প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ আসে ফ্যাট থেকে, ২০-২৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এবং মাত্র ৫-১০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থেকে। এর ফলে শরীর “কেটোসিস” নামের একটি অবস্থায় যায়, যেখানে গ্লুকোজের বদলে ফ্যাট ভেঙে শক্তি তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় “কিটোন” নামের উপাদান, যা শরীর ও মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

এই ডায়েটের সুবিধা হলো দ্রুত ওজন কমা। কার্বোহাইড্রেট কম থাকায় শরীর জমে থাকা ফ্যাট ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, ফলে চর্বি ঝরতে থাকে। অনেকেই বলেন, কিটো ডায়েটে ক্ষুধা কম অনুভূত হয়, কারণ ফ্যাট ও প্রোটিন পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়া টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে কিছু মানুষের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। মস্তিষ্কের জন্যও কিটোন একটি কার্যকর জ্বালানি, তাই কিছু গবেষণায় মনোযোগ ও মানসিক স্বচ্ছতা বাড়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি মৃগী রোগের চিকিৎসায় কিটোজেনিক ডায়েট বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে কিটো ডায়েট সবার জন্য নিরাপদ নয়। শুরুতে অনেকেই “কিটো ফ্লু” নামে পরিচিত কিছু উপসর্গ অনুভব করেন—যেমন মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, বমিভাব বা কোষ্ঠকাঠিন্য। দীর্ঘদিন কার্বোহাইড্রেট কম খেলে ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ফল ও শস্য কম খাওয়ার কারণে।
হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা বা গর্ভাবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ডায়েট ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
কিটো ডায়েট নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী খাদ্যপদ্ধতি, যা সঠিকভাবে অনুসরণ করলে কিছু মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে। কিন্তু এটি কোনো অলৌকিক সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি হলো ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ।
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর