নিজস্ব প্রতিনিধি , বকখালি - নগরজীবনের ক্লান্তি থেকে একটু ছুটি নিতেই মন ছুটে যায় সাগর–বাতাসের দিকে। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি এমনই এক সমুদ্র–তীরবর্তী শান্ত নির্জন স্থান, যেখানে নীল আকাশ, ধবধবে বালুকাবেলা আর অসীম সমুদ্র একসঙ্গে মিলে এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি করে। ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে মনকে রিফ্রেশ করতে বকখালির মতো জায়গা খুবই উপযোগী। ব্যস্ততা থেকে দূরে, ভিড়হীন সমুদ্রের ধারে বসে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা উপভোগ করার সুযোগ এখানেই পাওয়া যায়। তাই স্বল্প বাজেটে, কম দিনের ছুটি থাকলেও বকখালি এক অসাধারণ গন্তব্য।
বকখালি সুন্দরবনের উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি নিরিবিলি সমুদ্রসৈকত। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা, যেখানে ভোরবেলা বা বিকেলের দিকে হাঁটলে মন ভরে যায়। ঢেউ তুলনামূলক শান্ত, ফলে নিরাপদে সাগরস্নান করা যায়। আশেপাশে কার্গিল দ্বীপ, ফেরির ঘাট, পাখির অভয়ারণ্য—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে জায়গাটি এক স্বর্গ। সমুদ্রের বাতাসে এক ধরনের লবণাক্ত সতেজতা থাকে, যা মুহূর্তেই মনকে প্রশান্ত করে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, দিঘা বা পুরীর মতো ভিড় এখানে নেই, তাই শান্ত পরিবেশই বকখালির আসল সৌন্দর্য।
বকখালিতে ঘোরার মধ্যে সবচেয়ে আগে আসে বকখালি সমুদ্রসৈকত —এখানকার সানসেট ও সানরাইজ অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এরপর যেতে পারেন ফ্রেজারগঞ্জ উইন্ডমিল এলাকা , যেখানে সারি সারি উইন্ডমিল দেখে এক অন্য রকম অনুভূতি হয়। কাছেই আছে হেনরি আইল্যান্ড, প্রকৃতি ও নির্জনতা ভালোবাসলে এটি মিস করা চলবে না; এখানকার লেক, ম্যানগ্রোভ আর শান্ত সাগর অসাধারণ। ছোট্ট নৌকায় করে ফেরিঘাট ও জেটি এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। পাখি ভালোবাসলে বকখালির কাছাকাছি থাকা পাখির অভয়ারণ্যও একটি ভালো জায়গা।
কলকাতা থেকে বকখালির দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। এসপ্ল্যানেড থেকে প্রতিদিন বকখালির বাস পাওয়া যায়, সময় লাগে প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা। ট্রেনে যেতে চাইলে সেক্টর ফাইভ বা শিয়ালদা থেকে নামখানা পর্যন্ত লোকাল ট্রেন আছে; নামখানা থেকে আবার বাস বা অটো নিয়ে বকখালি যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়িতেও সুন্দর রাস্তা ধরে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়, বিশেষ করে সাগরদ্বীপের পথে যাত্রাটা বেশ আনন্দদায়ক।
বকখালি মোটামুটি কম বাজেটের ভ্রমণস্থল। সাধারণ লজ থেকে ভালো মানের রিসোর্ট—সব ধরনের থাকার ব্যবস্থা আছে। সাধারণ হোটেল ভাড়া ৮০০–১২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, আর মাঝারি মানের রিসোর্ট ১৫০০–৩০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। খাওয়া–দাওয়া সহ দুই দিনের জন্য মাথাপিছু ২০০০–৩৫০০ টাকার মধ্যে একটা সুন্দর ট্যুর হয়ে যায়। যাতায়াত খরচ বাসে গেলে কম, ব্যক্তিগত গাড়িতে হলে খরচ কিছুটা বেশি হবে।
বকখালিতে খাবারের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ সামুদ্রিক মাছ—চিংড়ি, ভেটকি, প্রন, কাঁকড়া ইত্যাদি তাজা পাওয়া যায়। স্থানীয় হোটেলগুলোতে সাধারণ বাঙালি রান্না, ভাত–ডাল–সবজি, মাছ–মাংস সবই পাওয়া যায়। দামও খুব বেশি নয়। যারা নিরামিষ খান, তাদের জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে। সমুদ্রের ধারের ছোট খাবারের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় তাজা নারকেল জল ও স্ন্যাক্স, যা বিকেলের হাওয়া খেতে খেতে উপভোগ করতে আলাদা শান্তি দেয়। তবে সুরা প্রেমীদের আরেকটি কথা জেনে রাখা ভালো এখানে সব ব্র্যান্ডের মদ সহজে পাওয়া যায়না। তাই পছন্দের পানীয় নামখানা থেকে সংগ্রহ করাই ভাল।
সব মিলিয়ে বকখালি এমন এক জায়গা, যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ মেলে। অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ নেই, কোলাহল নেই—শুধু সমুদ্রের ডাক ও শান্ত নীল আকাশ। সময় কম হোক বা বাজেট কম—মনকে একটু শান্তি দিতে চাইলে বকখালির মতো জায়গায় ছোট্ট এক ভ্রমণ সত্যিই মনে অমলিন স্মৃতি হয়ে থাকে।
প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের মতো নানা কারণে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান ক্রমশ কমছে
সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
অল্প বয়সে চুল পাকা সমস্যা কমাতে ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নিলেই ধীরে ধীরে ফিরতে পারে চুলের স্বাভাবিক রং ও স্বাস্থ্য
রুটির বদলে সঠিক শস্য বেছে নিলে পেটের মেদ কমানো সম্ভব
বিশ্বের বৃহৎ ১০টি তেলের ভাণ্ডারে কোন দেশে কতটা খনিজ তেল মজুত রয়েছে, তা নিয়েই বিশেষ প্রতিবেদন
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো