নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বিশ্বজুড়ে মানুষের আয়ু ক্রমেই বাড়ছে, আর তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ হলো শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলা। একসময় ১০০ বছরের বেশি বাঁচা ছিল বিরল ঘটনা, কিন্তু এখন অনেক দেশেই এই দীর্ঘায়ুর ধারা সাধারণ হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত চিকিৎসা এবং সামাজিক সহায়তা — সব মিলিয়ে মানুষ আজ আগের তুলনায় অনেক বেশি দিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারছে।
বিশ্ব জনসংখ্যা পর্যালোচনার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জাপান এখনো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শতবর্ষী জনসংখ্যার দেশ। দেশটিতে রয়েছে এক লক্ষের বেশি মানুষ যারা ১০০ বছরের গণ্ডি পেরিয়েছেন। এর পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত এবং ফ্রান্স। বড় জনসংখ্যার দেশ হলেও ভারতে শতবর্ষীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং চিকিৎসা সুবিধার উন্নতির পরিচয় বহন করে।

ইতালি, রাশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, থাইল্যান্ড, কানাডা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশেও শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এসব দেশে সাধারণত উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, উচ্চমানের জীবনযাপন এবং সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা মানুষকে দীর্ঘজীবী হতে সহায়তা করে। গবেষকরা মনে করেন, শুধুমাত্র চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নতি নয়, বরং জীবনযাত্রার পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক শান্তি এবং সামাজিক সংযোগও দীর্ঘ জীবনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলকে দীর্ঘদিন ধরেই “ব্লু জোন” হিসেবে পরিচিত। এখানে মানুষ সাধারণত সক্রিয় জীবনযাপন করে, উদ্ভিজ্জ খাদ্য বেশি খায় এবং পরিবার-সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। মানসিক চাপ কম থাকা এবং সহজ-সরল জীবনধারা তাদের দীর্ঘায়ুর মূল রহস্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্বব্যাপী শতবর্ষীর সংখ্যা যে কত বাড়ছে, তা গত ১৫ বছরের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ২০০৯ সালে যেখানে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ ১০০ বছরের বেশি বয়সে পৌঁছেছিলেন, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় নয় লাখের কাছাকাছি। জনস্বাস্থ্যের উন্নতি, টিকা কর্মসূচি, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিই এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ।

তবে দীর্ঘায়ুর এই উত্থান কিছু চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং পেনশন কাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে। আবার একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে—বয়স্ক মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় এবং সুস্থ থাকছেন, যা সমাজের জন্য ইতিবাচক দিক।
জাপানসহ অনেক দেশে প্রতিরোধ-ভিত্তিক স্বাস্থ্যনীতি, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব অভ্যাস কেবল রোগ প্রতিরোধেই নয়, বরং আয়ু বৃদ্ধিতেও লক্ষণীয় ভূমিকা রাখে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, শতবর্ষীর সংখ্যা বাড়া শুধু কোনো পরিসংখ্যান নয়—এটি মানবজীবনের মানোন্নয়নেরও প্রতিফলন। আরও বেশি মানুষ এখন দীর্ঘ, সুস্থ, সক্রিয় জীবন কাটাতে পারছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও উন্নত হলে এবং মানুষ আরও সচেতন হলে পৃথিবীতে শতবর্ষীর সংখ্যা যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।
বেগুনি বানানোর সহজ কিছু ঘরোয়া কৌশল
স্পিকার গ্রিলের প্রতিটি ছিদ্রের আলাদা কাজ রয়েছে
একাধিক পরিষেবা মিলবে ঘরে বসেই
কম ডাউন পেমেন্টে সহজ কিস্তি
আইআইটি খড়গপুরের সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি তথ্যনির্ভর পর্যটন পরিকল্পনা
কয়েকটি সহজ পরিবর্তনেই বাড়বে গোপনীয়তার সুরক্ষা
পর্যটকদের চাহিদায় প্রায় সব হোটেলই বুকিংয়ে ব্যস্ত
স্প্যাম ভেবে সব কল ব্লক না করার পরামর্শ TRAI এর
স্যাটেলাইট সংযোগে চলবে এই বিশেষ ফোন
নিরাপদ ব্যবহারের সহজ নিয়ম জেনে নিন
ভারী বৃষ্টিতে বাড়ির আশেপাশে মিলতেই পারে সরীসৃপের দেখা
প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও থাকবে নতুন আপডেটে
এক মাস আগের মেয়র দফতরের ঘটনার পর ফের রাজধানীতে বিস্ফোরণের আতঙ্ক
খাবারের মেনু নিয়ে বচসা থেকে হাতাহাতি, বর ও কনেপক্ষের সংঘর্ষে উত্তেজনা বিহারের সহ...
বিদেশের এক দম্পতি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৯৫টি চুম্বন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নি...
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের পর সরব এনসিপি, বিচারের রায় কার...
শেষ পর্যন্ত এই আচরণ মেনে নিতে না পেরে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কনে। ...