6937c43a40f20_829cd8f3-5fbc-4571-ae50-ff486978b3ca
ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫ দুপুর ০৩:৪৫ IST

দিনে কতবার হস্তমৈথুন করা ভাল ? হস্তমৈথুনের ফলে শরীর কি দুর্বল হয়?

নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - হস্তমৈথুন একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় অভ্যাস, বিশেষ করে কৈশোর ও তরুণ বয়সে অনেক ছেলের মধ্যেই এটি সাধারণভাবে দেখা যায়। আসলে হস্তমৈথুনের কোনো নির্দিষ্ট “সঠিক সংখ্যা” নেই —কারণ এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। কারও জন্য সপ্তাহে ২–৩ বার স্বাভাবিক, আবার কারও জন্য দিনে একবারও হতে পারে। মূল কথা হলো
যতক্ষণ এটি দৈনন্দিন জীবন, পড়াশোনা, কাজ, ঘুম বা সামাজিক সম্পর্কের ক্ষতি করছে না—ততক্ষণ এটি স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই পড়ে।

হস্তমৈথুন সম্পর্কে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা ও সত্য

“বেশি হস্তমৈথুন করলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়”

বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত—সাধারণ মাত্রার হস্তমৈথুন শরীর দুর্বল করে না। বীর্য কোনো “বিশেষ শক্তি” নয়—এটি শরীর প্রতিদিনই তৈরি করে। অতিরিক্ত করলে সাময়িক ক্লান্তি আসতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কোনো ক্ষতি নেই।

“হস্তমৈথুন করলে যৌন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়”

এটি সম্পূর্ণ মিথ। হস্তমৈথুনে ইরেকশন বা যৌনক্ষমতা নষ্ট হয় না। বরং যৌনসচেতনতা বাড়ে, স্ট্রেস কমে, ঘুম ভালো হয়—এগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত।

“হস্তমৈথুন করলে বীর্য কমে যায়, ভবিষ্যতে সন্তান হবে না”

বীর্য সবসময়ই পুনরায় তৈরি হয়। হস্তমৈথুন ভবিষ্যতের প্রজননক্ষমতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বরং দীর্ঘদিন বীর্যধারণ করলে কোনো অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যায় এমন প্রমাণও নেই।

“হস্তমৈথুন হারাম/অপরাধ তাই করলে মানসিক সমস্যা হবে”

ধর্মীয় ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে, তবে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে এটি মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করে না। বরং অপরাধবোধ ও ভুল তথ্য থেকেই মানসিক চাপ তৈরি হয়। সঠিক জ্ঞান থাকলে এসব উদ্বেগ অনেক কমে যায়।

৫. “হস্তমৈথুন করলে লিঙ্গ ছোট হয়ে যায় বা বাঁকা হয়”

এটিও সম্পূর্ণ ভুল। লিঙ্গের আকৃতি বা আকার জিনগতভাবে নির্ধারিত হয়। হস্তমৈথুনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

তাহলে কতটা হস্তমৈথুন “স্বাভাবিক”?

 দিনে ১ বার বা সপ্তাহে ২–৪ বার—এসব গড় স্বাভাবিক সীমা।
তবে কারও বেশি বা কম হতে পারে; মূল কথা— এটি যেন বাধ্যতামূলক অভ্যাসে পরিণত না হয়। তবে একটি গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি  মাসে ২১ বার বা তার বেশি হস্তমৈথূন করে তবে তার প্রস্টেট ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। 
যদি কেউ দিনে বহুবার করতে করতে পড়াশোনা, কাজ বা সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করে—তাহলে সেটি  অতিরিক্ত  বলে গণ্য হয় এবং কমানোর চেষ্টা বা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হস্তমৈথুন মানুষের স্বাভাবিক যৌন আচরণের অংশ। ভুল ধারণা বা লজ্জার কারণে অনেক তরুণ অকারণে ভয় পায়। সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা থাকলে নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে স্বস্তি এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে।