নিজস্ব প্রতিনিধি , কালিম্পং - বর্ষা এলেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাগুলি যেন সবুজের নতুন সাজে সেজে ওঠে। মেঘের আনাগোনা, ভেজা জঙ্গল, পাহাড়ি নদীর স্রোত মিলিয়ে তৈরি হয় মন ভালো করা পরিবেশ। পর্যটকদের ভিড় থেকে দূরে এমনই এক সুন্দর জায়গা রয়েছে পাপরখেতি। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে এই জায়গাটি রাখতে পারেন ভ্রমণের তালিকায়।
পাপরখেতি কালিম্পং জেলার গরুবাথান এলাকার কাছে থাকা একটি ছোট পাহাড়ি গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা এই জায়গার প্রধান আকর্ষণ চেল নদী, পাহাড়ি পরিবেশ, ঘন সবুজ বন। বর্ষায় মেঘে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য জায়গাটিকে আরও সুন্দর করে তোলে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের ঘোরাঘুরির জন্য এই জায়গাটি হতে পারে বেশ উপযোগী।

কী ভাবে যাবেন ?
কলকাতা থেকে ট্রেনে প্রথমে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে শিলিগুড়ি হয়ে গরুবাথান, তারপর লাভার রাস্তা ধরে পাপরখেতি যেতে পারবেন। বিমানে গেলে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে একই পথে গাড়িতে যেতে হবে। শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি রিজার্ভ গাড়ি নিলে সবচেয়ে সহজে পাপরখেতি পৌঁছনো যায়।
কত খরচ হবে ?
কলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি ট্রেনের ভাড়া ট্রেনের ধরন অনুযায়ী আনুমানিক ৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা হতে পারে। শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি রিজার্ভ করলে গাড়ির ধরন অনুযায়ী প্রায় ২,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা লাগতে পারে। খাবারের জন্য জনপ্রতি দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা ধরতে পারেন।
গরুবাথান এলাকায় থাকতে চাইলে সাধারণ হোমস্টেতে ঘরপ্রতি প্রায় ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা খরচ হতে পারে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে দুজনের একদিনের সফরে মোটামুটি ৩,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকা বাজেট রাখলে পরিকল্পনা করা যায়।

কী কী দেখবেন ?
১. চেল নদীর ধারে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। বর্ষায় নদীর রূপ বদলে যায়, তাই জলের কাছাকাছি নামার আগে নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখুন।
২. চারপাশের পাহাড়ি জঙ্গল বর্ষায় ঘন সবুজ হয়ে ওঠে। রাস্তার ধারে থেমে প্রকৃতির ছবি তুলতে পারেন।
৩. মেঘে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ। পরিষ্কার আকাশের তুলনায় বর্ষার মেঘলা পরিবেশে পাপরখেতির আলাদা সৌন্দর্য দেখা যায়।
৪. পিকনিক স্পটে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো যায়। তবে প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলে জায়গাটি নোংরা না করাই ভালো।
৫. গরুবাথান ঘুরে দেখতে পারেন। পাহাড়ি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটিয়ে পরে লাভার দিকেও যাওয়া যায়।
৬. লাভার পথে যাত্রার সময় রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। বর্ষায় এই পথের সবুজ পরিবেশ ভ্রমণের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।
৭. ফোটোগ্রাফির জন্য জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়। মেঘ, পাহাড়, নদী, জঙ্গল মিলিয়ে নানা ধরনের প্রাকৃতিক ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে।
মানচিত্রে নতুন পরিচয়, ২১টি এলাকা-সহ ৪ গিরিপথ ও হ্রদও তালিকায়
সেনেটে পাস রাশিয়া-বিরোধী বিল, চিন-ভারত-জাপান-সহ একাধিক দেশকে ঘিরে বাড়ছে চাপ
জেদ্দায় যৌথ সমঝোতার জল্পনা, ভারত-পাক সংঘাত হলে বদলাতে পারে কূটনৈতিক হিসাব
কমবয়সিদের নিরাপত্তায় আদালতের রায়
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের