ভারত যখন ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে, তখন নারীদের অবস্থা ছিল গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যে পরিপূর্ণ। সমাজে পুরুষতান্ত্রিক প্রভাব ছিল প্রবল, এবং অধিকাংশ নারীকে গৃহস্থালি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো। শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত, নারীদের সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ৯% এরও কম। বাল্যবিবাহ, পণপ্রথা এবং পর্দা প্রথার মতো অনুশীলন ছিল ব্যাপক। আইনি অধিকার ছিল খুবই সীমিত, এবং সামাজিক সংস্কার ধীরে এগোচ্ছিল। তবুও কিছু ব্যতিক্রমী নারী স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরোজিনী নাইডু ভারতের প্রথম মহিলা রাজ্যপাল হন এবং অরুণা আসাফ আলী "ভারত ছাড়ো আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এইসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, স্বাধীনতার পরের বছরগুলোতে নারীরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রান্তে থেকেই গিয়েছিলেন।
২০২৫ সাল নাগাদ ভারতের নারীদের অবস্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে-যার পেছনে রয়েছে শিক্ষার প্রসার । বর্তমানে নারীদের সাক্ষরতার হার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং তারা রাজনীতি, ব্যবসা, বিজ্ঞান, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মতো প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। রাজনীতিতে দ্রৌপদী মুর্মু ভারতের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। নির্মলা সীতারামন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্মৃতি ইরানি একজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতীয় নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন-গীতা গোপীনাথ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ফার্স্ট ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে রয়েছেন । তেসি থমাস, যাকে "মিসাইল উইম্যান অব ইন্ডিয়া' বলা হয়, এবং রিতু করিধল ইসরোর মঙ্গল অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
খেলাধুলা ও বিনোদন জগতে ভারতীয় নারীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। পি.ভি. সিন্ধু অলিম্পিকে ব্যাডমিন্টনে একাধিক পদক জিতেছেন, মীরাবাই চানু ওজন উত্তোলনে অলিম্পিক পদক পেয়েছেন, এবং হরমনপ্রীত কৌর ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক সাফল্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মেরি কম বক্সিংয়ে বিশ্বজয় করে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়েছেন।"বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও", "উজ্জ্বলা যোজনা', এবং 'স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া'-র মতো সরকারী প্রকল্প নারীদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও উদ্যোক্তা হবার সুযোগ তৈরি করেছে।১৯৪৭সালের সামাজিক বাঁধন থেকে উঠে এসে ২০২৫ সালের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্বে আসীন হওয়া এটা নারীদের সংগ্রাম, শক্তি ও সাফল্যের এক অনন্য যাত্রাপথ।
এই বিশ্বজয় প্রমাণ করে যে কাজের মেধা আর লক্ষ্য স্থির থাকলে কোনো বাধাই বড় হয় না
এমনকি নারী শক্তির জয়গান গেয়ে তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন
তার এই অদম্য জীবনযুদ্ধ সাধারণ নারীদের নিজের পরিচয় গড়ে তোলার জন্য ক্রমশ শক্তি জোগাচ্ছে
যীশুর বার্তা ছড়াতে চাই দাবি পোপের
নাসার আর্তেমেসিস ২ চন্দ্র অভিযান শেষ হওয়ার পরেই ট্রাম্পের পোস্ট ব্যাপক আলোচনার...
অভিজ্ঞতাহীন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন
চুক্তি নিয়ে যদিও শুরু থেকে কোনো মাথাব্যথা ছিল না মার্কিন প্রেসিডেন্টের
জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এলাকায়