“আমি মনে করি নারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে উপেক্ষিত ও সাধারণ অন্যায় হল লিঙ্গবিদ্বেষমূলক আচরণকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া,” বলেন তরুণ লেখিকা। “মানুষ প্রায়ই পুরুষদের আচরণের জন্য নারীদের দোষারোপ করে, এমন একটা ভাব তৈরি করে যেন পুরুষরা কখনই বদলাতে পারবে না, আর 'ছেলেরা তো এমনই'—এই কথাটা যেন অজুহাত। এতে শুধু নারীদের অপমান করা হয় না, বরং পুরুষদেরও এমন একটি ছাঁচে ফেলা হয় যেখানে মনে করা হয় তারা নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে অক্ষম।” এই ভাবনাগুলিই তাঁর কবিতা ও শিল্প সংগ্রহের ভিত্তি—একটি সংকলন যা সমাজের এড়িয়ে চলা বিষয়গুলি তুলে ধরে, যেমন রাস্তায় বাজে মন্তব্য করা বা অল্পবয়সী মেয়েদের যৌনীকরণ। “আমি সেই কথাগুলি লিখি, যেগুলো মানুষ মুখে বলতে চায় না,” তিনি ব্যাখ্যা করেন। “কারণ অনেক সময় নীরবতাই সবচেয়ে জোরে চিৎকার করে।”

তাঁর জীবনে সবচেয়ে গভীর প্রভাব ফেলে একটি ক্যাম্পেইন, যা করেছিল এনজিও স্নেহা। “আমি একটি ভিডিও দেখেছিলাম, পরিচালনা করেছিলেন বিজয় ভীরমাল—ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন নারী করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে মাস্ক পরে আছেন। কিন্তু মাস্ক খোলার পর দেখা গেল, তাঁদের মুখে আঘাতের দাগ, ক্ষত! এটা আমাকে প্রচণ্ড নাড়া দিয়েছিল। ওনারা ভাইরাস থেকে তো বাঁচছেন, কিন্তু নিজেদের ঘরের মধ্যেই নিরাপদ নন।” লকডাউনের সময় তিনি চারপাশের বিশৃঙ্খলায় নিজেকে অসহায় মনে করছিলেন—কিন্তু এই ক্যাম্পেইনটি দেখার পর, কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করেন। “আমি বিভিন্ন নারীর গল্প পড়তে শুরু করি, আর সেই কথা-গাথা আমার কবিতায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। একটা কবিতা দিয়ে শুরু হলেও, বলার মতো এত কিছু ছিল যে থামতে পারিনি।” তাঁর সৃষ্টি হয়ে ওঠে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া—একটা কণ্ঠস্বর, যা বহু নারীর অদৃশ্য যন্ত্রণাকে প্রকাশ করে।

“এই কবিতাগুলি আমি উৎসর্গ করেছি ভুক্তভোগীদের, বেঁচে যাওয়া নারীদের, এবং প্রতিটি সেই নারীকে যিনি কখনও শুধু তাঁর লিঙ্গের কারণে অন্যায়ের শিকার হয়েছেন,” তিনি বলেন। “যদি আমরা একজন নারীকেও তাঁর ব্যক্তিগত নরক থেকে মুক্ত করতে পারি, তাহলেও আমরা একটা জীবন বদলে দিতে পারব।” তীব্র চিত্রকল্প আর আবেগঘন প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর কবিতাগুলি নারীর প্রতি সহিংসতা, সমাজের প্রত্যাশা এবং লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণাগুলির উপর আলো ফেলতে চায়। “শিল্পের ক্ষমতা আছে ঘা দেওয়ার, আর একসাথে সারিয়ে তোলারও,” তিনি বলেন। “যদি আমরা এইসব বিষয় নিয়ে মুখ না খুলি, তাহলে এগুলোর পরিবর্তন আসবে কীভাবে?” তাঁর কবিতা হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না, কিন্তু চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ আর রাখে না।

রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর