697323186bd22_1646449073_pat
জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ দুপুর ০৩:২০ IST

স্পার্ম ডোনার , বর্তমানের এক বিকল্প আয়ের পেশা

নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বর্তমান সময়ে আয়ের নতুন নতুন পথ খুঁজছেন অনেক তরুণ। পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাশি কেউ কেউ এমন কিছু বিকল্প উপার্জনের সুযোগের কথা ভাবছেন, যা সমাজে এখনও খুব একটা খোলামেলা আলোচনায় আসে না। তার মধ্যে একটি হলো স্পার্ম ডোনেশন বা শুক্রাণু দান। এটি শুধু আয়ের একটি মাধ্যমই নয়, বরং নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য আশার আলোও বটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আজ অনেক দেশেই স্পার্ম ডোনেশন একটি নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃত। তবে এতে জড়িত নিয়ম, স্বাস্থ্যগত শর্ত এবং নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

You can earn thousands and these are rules of sperm donation in India

স্পার্ম ডোনেশন কী এবং কেন প্রয়োজন - স্পার্ম ডোনেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একজন সুস্থ পুরুষ স্বেচ্ছায় তার শুক্রাণু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দান করেন, যা পরবর্তীতে বন্ধ্যত্বে ভোগা দম্পতিদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণমান কম বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবে সন্তান নিতে পারেন না। এই অবস্থায় ডোনার স্পার্মের মাধ্যমে আইইউআই বা আইভিএফ পদ্ধতিতে গর্ভধারণ সম্ভব হয়। তাই এই দানের সামাজিক গুরুত্বও কম নয়।

Egg Donor Program In Noida - Egg Donation Clinic | Maaeri Fertility And IVF

কে কে ডোনার হতে পারেন - সাধারণত ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ পুরুষরা ডোনার হতে পারেন। উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি বংশগত রোগ, সংক্রামক রোগ (যেমন এইচআইভি, হেপাটাইটিস, সিফিলিস) ও জেনেটিক স্ক্রিনিং করা হয়। অনেক ক্লিনিক শিক্ষা, জীবনযাপন অভ্যাস এবং পারিবারিক চিকিৎসা ইতিহাস সম্পর্কেও তথ্য নেয়, যাতে ভবিষ্যৎ শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি কম থাকে।

প্রক্রিয়াটি কীভাবে হয় - প্রথম ধাপে আগ্রহী ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট স্পার্ম ব্যাংক বা ফার্টিলিটি ক্লিনিকে যোগাযোগ করতে হয়। সেখানে প্রাথমিক ফর্ম পূরণ ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। যোগ্য প্রার্থী হলে নির্দিষ্ট সময়ে ক্লিনিকে এসে নমুনা প্রদান করতে হয়। নমুনা সংগ্রহের পর তা বিশেষভাবে সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করা হয়, তারপর প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়।

আয়ের সুযোগ ও পরিমাণ - স্পার্ম ডোনেশন থেকে আয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন হয়। ভারতে সাধারণত প্রতি ডোনেশনে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। কিছু ক্লিনিক মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডোনেশনের অনুমতি দেয়, ফলে  একটি সীমিত কিন্তু স্থির অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এটিকে কখনোই পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে দেখা হয় না, বরং একটি বিকল্প  উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেই বিবেচিত হয়।

আইনি ও নৈতিক দিক - ভারতে স্পার্ম ডোনেশন আইসিএমআর এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত। সাধারণত ডোনারের পরিচয় গোপন রাখা হয়, এবং ভবিষ্যতে শিশুর উপর কোনো আইনি দায়িত্ব ডোনারের থাকে না। তবে দান করার আগে সব শর্ত ও চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি, যাতে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।