696e2f06b5680_Vikkuk
জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ রাত ০৮:১৬ IST

রাস্তায় ভিক্ষা করেই কোটি টাকার সম্পত্তি , ভিক্ষুকের অবাক কাণ্ডে তোলপাড় ভারত

নিজস্ব প্রতিনিধি , ইন্দর - ইন্দোরের সরাফা বাজারে প্রতিদিন যে দৃশ্যটি বহু বছর ধরে পরিচিত ছিল, তা যেন হঠাৎ করেই এক বিস্ময়কর মোড় নিল। লোহার চাকার ওপর বসে থাকা এক শারীরিকভাবে অক্ষম ভিক্ষুক, যাঁকে মানুষ কয়েক টাকার সাহায্য দিতেন সহানুভূতির বশে—তাঁর পরিচয়ই বদলে গেল প্রশাসনিক অভিযানের জন্য । নাম মাঙ্গিলাল। ‘মিশন বেগার-ফ্রি ইন্দোর’ অভিযানে উঠে এসেছে, এই মাঙ্গিলালই নাকি এখন কোটিপতি।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী , বহু বছর ধরে ইন্দোরের বিখ্যাত সরাফা বাজারে নিয়মিত দেখা যেত তাঁকে। হাতে ব্যাগ, পায়ে বিশেষ জুতো পরানো ,  কাঠের গাড়িতে ভর দিয়ে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা আদায় করতেন তিনি । প্রতিদিন পথচারীদের দেওয়া কয়েন বা নগদ মিলিয়ে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার করতেন বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। কিন্তু এই অল্প অল্প অর্থই সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে বড় সম্পদের ভিত্তিতে। 

নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতরের নোডাল অফিসার দিনেশ মিশ্রর নেতৃত্বে সাম্প্রতিক এক অভিযানে যখন মাঙ্গিলালকে পুনর্বাসনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, তখনই সামনে আসে তাঁর সম্পদের বিস্তৃত তালিকা। প্রশাসনের দাবি, মাঙ্গিলালের নামে রয়েছে তিনটি বাড়ি—ভগত সিং নগরে তিনতলা বাড়ি, আলওয়াসায় একটি ওয়ান বিএইচকে ফ্ল্যাট এবং শিব নগরে প্রায় ৬০০ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট। এর মধ্যে আলওয়াসার ফ্ল্যাটটি তিনি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায়, প্রতিবন্ধী হিসেবে সুবিধা নিয়ে। 

এতেই শেষ নয়। তাঁর মালিকানায় রয়েছে একটি সুইফট ডিজায়ার গাড়ি এবং তিনটি অটোরিকশা। এই যানবাহনগুলো তিনি ভাড়ায় চালান বলে জানা গিয়েছে, যা থেকে নিয়মিত আয় আসে। প্রশাসনের নজর কেড়েছে তাঁর আরেকটি কর্মকাণ্ড—সুদে টাকা ধার দেওয়া। সরাফা বাজারের ছোট গয়নার ব্যবসায়ীদের কাছে উচ্চ সুদে অর্থ ধার দিয়ে তিনি সপ্তাহ বা দিনে সুদ আদায় করেন বলে অভিযোগ। 

এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে। জেলা কর্মসূচি আধিকারিক রাজনিশ সিনহার মতে, সুদের ব্যবসা আইনত অপরাধ, এবং এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মাঙ্গিলালের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও নগদ অর্থ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের প্রশ্ন, দু’টি সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি সরকারি আবাস যোজনার সুবিধা পেলেন? 

বর্তমানে মাঙ্গিলাল আলওয়াসার ফ্ল্যাটে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। তাঁর দুই ভাই আলাদা থাকেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে শুরু হওয়া বেগার-নির্মূল অভিযানের লক্ষ্য ছিল শহরের রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তির অবসান। কিন্তু এই অভিযানই উন্মোচন করল এক চাঞ্চল্যকর বাস্তবতা—সহানুভূতির আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে একেবারে অন্য রকম এক আর্থিক গল্প। 

মাঙ্গিলালের কাহিনি এখন শুধু ইন্দোর নয়, গোটা দেশের আলোচনার বিষয়। এটি একদিকে যেমন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্ন তোলে, তেমনই সরকারি সুযোগ-সুবিধার যথাযথ প্রয়োগ নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে।