69426a13e4ae6_iStock-1074501762
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ বিকাল ০৭:৩০ IST

ভারতেই আবিষ্কার হয়েছিল বিরল বোম্বে রক্তের গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - মানুষের রক্ত সাধারণত A, B, AB ও O - এই চারটি গ্রুপে ভাগ করা হলেও এর বাইরেও আছে এমন এক রক্তের ধরন, যা অত্যন্ত বিরল ও জীবনরক্ষায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ - বোম্বে রক্তের গ্রুপ। এই রক্তের নাম অনেকেরই শোনা নেই, কিন্তু যাঁদের শরীরে এই রক্ত প্রবাহিত, তাঁদের জন্য সঠিক সময়ে উপযুক্ত রক্ত পাওয়া অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

১৯৫২ সালে ভারতের মুম্বাই শহরে (তৎকালীন বোম্বে) প্রথম এই রক্তের গ্রুপ শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসক ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে, কিছু মানুষের রক্ত প্রচলিত O গ্রুপের মতো মনে হলেও আসলে তা ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের। আবিষ্কারের স্থান অনুসারেই এর নাম রাখা হয় “বোম্বে ব্লাড গ্রুপ” বা “বোম্বে ফেনোটাইপ”।
 

বিরলের মধ্যে বিরলতম - বোম্বে রক্তের বিরলতার মূল কারণ এর জেনেটিক গঠন। সাধারণত রক্তে A বা B অ্যান্টিজেন তৈরি হওয়ার ভিত্তি হলো ‘H অ্যান্টিজেন’। O গ্রুপে A ও B না থাকলেও H অ্যান্টিজেন থাকে। কিন্তু বোম্বে রক্তের ক্ষেত্রে এই H অ্যান্টিজেনই অনুপস্থিত। এই বিশেষ জেনেটিক পরিবর্তন খুব কম মানুষের মধ্যেই ঘটে, তাই এই রক্তের গ্রুপ অত্যন্ত বিরল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে গড়ে প্রায় প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে একজনের এই রক্তের গ্রুপ পাওয়া যায়। ভারতে এর হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি—প্রায় প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে একজন। তবুও জনসংখ্যার তুলনায় সংখ্যাটি অত্যন্ত নগণ্য। 

রক্তের বিশেষত্ব - বোম্বে রক্তের মানুষেরা কেবলমাত্র বোম্বে রক্তই গ্রহণ করতে পারেন। O গ্রুপসহ অন্য কোনো রক্ত তাঁদের শরীরে দিলে তা মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তবে তাঁরা অন্য যেকোনো গ্রুপের মানুষকে রক্ত দিতে পারেন। এই বৈশিষ্ট্য একদিকে যেমন অনন্য, অন্যদিকে তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে আনুমানিক কয়েক হাজার থেকে দশ-বারো হাজার মানুষের শরীরে বোম্বে রক্তের গ্রুপ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ভারতে সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও তা এখনও খুবই সীমিত।

বোম্বে রক্তের গ্রুপ চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিরল অধ্যায়। সচেতনতা, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা তালিকা এবং আধুনিক রক্তব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই বিরল রক্তের মানুষের জীবনরক্ষা সম্ভব।