নিজস্ব প্রতিনিধি , পাটায়া - শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কখনও কোনো মানুষের অগ্রগতির পথে বাধা হতে পারে না ,তার জীবন্ত প্রমাণ পায়েল নাগ। মাত্র আঠারো বছর বয়সে ব্যাংককের ওয়ার্ল্ড আর্চারি প্রতিযোগিতায় জোড়া স্বর্ণপদক জিতে বিশ্বজুড়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি। জীবনের এই প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে বিশ্বের প্রথম চার হাত-পা বিহীন তিরন্দাজ হিসেবে আন্তর্জাতিক শিরোপা অর্জন করেন পায়েল নাগ। তিনি প্রমাণ করেছেন, মনের জোর আর শক্তি থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
ওড়িশার বালঙ্গীর জেলার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন পায়েল। ছোটোবেলা থেকেই তার জীবন ছিল চরম সংগ্রামের। ২০১৫ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি এক দুর্ঘটনার শিকার হন। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এত কম বয়সেই চারটি হাত-পা হারান পায়েল নাগ। এই ঘটনায় তাঁর শৈশবের স্বাভাবিক ছন্দ সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।এরপর পায়েল একটি অনাথ আশ্রমে বড় হতে থাকেন। তবে শৈশবের এই চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি নিজের আত্মবিশ্বাস কখনো হারাননি।
অনাথ আশ্রমে থাকাকালীন সময় কাটানোর জন্য পায়েল মুখ দিয়ে ছবি আঁকা শুরু করেন। তাঁর আঁকা এই সুন্দর ছবিগুলোকে দেখেই কোচ কুলদীপ বেদওয়ান পায়েলের একাগ্রতা লক্ষ্য করেন। তিনি পায়েলকে কাটরার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আর্চারি শেখানোর জন্য নিয়ে যান। কৃত্রিম অঙ্গ আর কাঁধের বিশেষ কৌশলে ক্রমশ তিনি তির চালানো শেখেন। এখন দাঁত দিয়ে ধনুকের ছিলা টেনে তিনি নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করতে পারেন। এইভাবেই জীবনের এক নতুন দিশা খুঁজে পান পায়েল নাগ।
২০২৫ সালে জাতীয় স্তরে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের দ্বারা দেশের সাধারণ মানুষের নজর কাড়লেন পায়েল। জয়পুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্যারা আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি দুটি স্বর্ণপদক জয় করেন। এরপর দিল্লির খেলো ইন্ডিয়া প্যারা গেমসে তিনি রুপো জিতে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন। একই বছরে দুবাইয়ের এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরের দিকে এগিয়ে গেলেন।
এরপর ২০২৬ সালের ৪ই এপ্রিল ব্যাংককের মাটিতে ইতিহাস গড়লেন পায়েল নাগ। ওয়ার্ল্ড আর্চারি প্যারা সিরিজের ফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর তিরন্দাজ শীতল দেবীকে হারিয়ে ব্যক্তিগত বিভাগে স্বর্ণপদক জিতলেন তিনি। এছাড়াও একই প্রতিযোগিতায় পায়েল দলীয় বিভাগেও স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস প্যারালিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পায়েলের এই সাফল্য তাঁরই মতো প্রতিবন্ধক অসংখ্য মানুষের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলেছে।
“মনে যদি ইচ্ছা থাকে জীবনে সফল হওয়ার, তাহলে কোনো বাধাই কাউকে আটকাতে পারে না।”
এই বিশ্বজয় প্রমাণ করে যে কাজের মেধা আর লক্ষ্য স্থির থাকলে কোনো বাধাই বড় হয় না
এমনকি নারী শক্তির জয়গান গেয়ে তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন
তার এই অদম্য জীবনযুদ্ধ সাধারণ নারীদের নিজের পরিচয় গড়ে তোলার জন্য ক্রমশ শক্তি জোগাচ্ছে
যীশুর বার্তা ছড়াতে চাই দাবি পোপের
নাসার আর্তেমেসিস ২ চন্দ্র অভিযান শেষ হওয়ার পরেই ট্রাম্পের পোস্ট ব্যাপক আলোচনার...
অভিজ্ঞতাহীন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন
চুক্তি নিয়ে যদিও শুরু থেকে কোনো মাথাব্যথা ছিল না মার্কিন প্রেসিডেন্টের
জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এলাকায়