নিজস্ব প্রতিনিধি , মুম্বই - সমাজের চোখে এখনও একজন বিবাহিত নারীর পরিচয় শুধুমাত্র ঘরকন্যা আর পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে সেই গণ্ডি পেরিয়ে শ্বেতা রায় আজ লক্ষ লক্ষ নারীর অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বিহারের পাটনা থেকে শুরু হওয়া তার এই যাত্রা আজ হাজারো নারীর মনের সাহস জাগিয়ে তুলেছে। ৬ই এপ্রিল শ্বেতা একটি ফ্যাশন শোয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের সাফল্য আর নারী শক্তি নিয়ে বার্তা দেন। তার এই অদম্য জীবনযুদ্ধ সাধারণ নারীদের নিজের পরিচয় গড়ে তোলার জন্য ক্রমশ শক্তি জোগাচ্ছে।
পাটনার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে শ্বেতা রায় জন্মগ্রহণ করেন। সেখানকার এক বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর উচ্চশিক্ষার জন্য দিল্লি গিয়ে পাবলিক রিলেশনে মাস্টার্স করেন। তবে পড়াশোনা শেষ হয়ে গেলে বিয়ের পর তার আসল জীবনযুদ্ধ শুরু হয়। সংসার সামলে নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা ছিল তার জন্য একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ।
শ্বেতা রায় কোনো রকম চাকরি জগতে যেতে চাননি। বিয়ের পর স্বপ্ন পূরণ করতে মেধা দিয়ে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রমের পর শ্বেতা 'Mrs Stunning India - Worldwide 2019-20' খেতাব জয় করেন। তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সঠিক সুযোগ পেলে বিবাহিত নারীরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে। এই উপলব্ধির পর শ্বেতা ২০২০ সালে স্বামীর সহযোগিতায় 'SR Queens Media' প্রতিষ্ঠা করেন। এটি প্রতিষ্ঠা করার পিছনে শ্বেতার মূল উদ্দেশ্য হল, বিবাহিত নারীদের জন্য 'Mrs India Queen - Pehchaan Meri' নামে একটি প্ল্যাটফর্ম আয়োজন করা। যাতে কোনো রকম উচ্চতা বা বয়সের বাধা ছাড়াই নারীরা নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পায়।
এরপর ২০২৬ সালের এপ্রিলে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে 'The Indian Carnival' এর সময়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে 'Indians For Change Award' সম্মাননা লাভ করেছেন। এমনকি দুবাইতে আয়োজিত 'ET Indo Global Leaders' সম্মেলনেও তিনি বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন। সম্প্রতি 'Bombay Times Fashion Week' থেকে শুরু করে 'Milan Fashion Week' সমস্ত বড় মঞ্চে শ্বেতা রায়ের উপস্থিতি সব নারীদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে চলেছে। নিজের সংসার, পরিবার সামলেও কিভাবে নিজের স্বপ্নপূরণ করা যায়, তার জীবন্ত উদাহরণ হলেন শ্বেতা রায়। "নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়"
এই বিশ্বজয় প্রমাণ করে যে কাজের মেধা আর লক্ষ্য স্থির থাকলে কোনো বাধাই বড় হয় না
এমনকি নারী শক্তির জয়গান গেয়ে তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন
যীশুর বার্তা ছড়াতে চাই দাবি পোপের
নাসার আর্তেমেসিস ২ চন্দ্র অভিযান শেষ হওয়ার পরেই ট্রাম্পের পোস্ট ব্যাপক আলোচনার...
অভিজ্ঞতাহীন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন
চুক্তি নিয়ে যদিও শুরু থেকে কোনো মাথাব্যথা ছিল না মার্কিন প্রেসিডেন্টের
জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এলাকায়