নিজস্ব প্রতিনিধি , গোপালপুর - ওড়িশার শান্ত সমুদ্রতীর মানেই অনেকের কাছে পুরী। কিন্তু ভিড় এড়িয়ে যদি একটু নির্জন, পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছন্দ সমুদ্রসৈকতের খোঁজ করেন, তবে গন্তব্য হতে পারে গোপালপুর। ওড়িশার গঞ্জাম জেলায় অবস্থিত এই ছোট্ট সমুদ্রতীরবর্তী শহর একসময় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। ব্রিটিশ আমলে এখানে সমুদ্রপথে বাণিজ্য চলত, তার কিছু পুরনো নিদর্শন এখনও দেখা যায়। আজ গোপালপুর মূলত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত—নীল সমুদ্র, দীর্ঘ বালুকাবেলা আর শান্ত পরিবেশের জন্য।

কি কি দেখবেন - গোপালপুর সমুদ্রসৈকতই এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। ভোর বা বিকেলের সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময় সমুদ্রের রঙ বদলের দৃশ্য অপূর্ব। ঢেউ এখানে তুলনামূলক শান্ত, তাই নির্ভয়ে জলের ধারে সময় কাটানো যায়। সমুদ্রসৈকতের ধারে পুরনো লাইটহাউস এলাকায় দাঁড়ালে চারপাশের বিস্তীর্ণ জলরাশি ও শহরের দৃশ্য একসঙ্গে ধরা পড়ে। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য কাছেই রয়েছে চিলিকা হ্রদ। এশিয়ার বৃহত্তম লোনা জলের হ্রদে নৌকা বিহার , পাখি দেখা ও ডলফিন দেখার সুযোগ মেলে নির্দিষ্ট মৌসুমে। এছাড়া ইতিহাসে আগ্রহ থাকলে একদিনে ঘুরে আসা যায় বেরহামপুর শহর, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও বাজারের জন্য পরিচিত।

কলকাতা থেকে যাতায়াত - কলকাতা থেকে ট্রেনে গোপালপুর পৌঁছানোই সবচেয়ে সুবিধাজনক। কলকাতা থেকে বহু এক্সপ্রেস ও সুপারফাস্ট ট্রেন যায় বেরহামপুর পর্যন্ত। সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। বেরহামপুর স্টেশন থেকে গোপালপুরের দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার, অটো বা গাড়িতে ৩০-৪০ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায়। বাসে গেলে কলকাতা থেকে সরাসরি ওড়িশাগামী বাসে বেরহামপুর নেমে সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহণে যেতে হয়।
নিজস্ব গাড়িতে গেলে জাতীয় সড়ক ধরে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ, সময় লাগতে পারে ১২-১৪ ঘণ্টা, মাঝপথে বিশ্রাম নিয়ে গেলে আরামদায়ক হয়।
খরচপাতি - গোপালপুর তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী সমুদ্রভ্রমণ। মাঝারি মানের হোটেলে দু’জনের থাকার খরচ প্রতিদিন ১২০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। সমুদ্রের ধারে রিসর্ট নিলে খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। খাবারের খরচ মাথাপিছু প্রতিদিন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে রাখা যায়, বিশেষ করে স্থানীয় ওড়িয়া ও সামুদ্রিক খাবার খেলে।ট্রেনভাড়া স্লিপার ক্লাসে একদিকে ৪০০-৬০০ টাকা, এসি ক্লাসে ১০০০-১৮০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। সব মিলিয়ে দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে মাথাপিছু ৪০০০ থেকে ৮০০০ টাকার মধ্যে সুন্দর একটি সমুদ্রভ্রমণ সম্ভব।

গোপালপুর সেইসব ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আদর্শ, যারা সমুদ্র মানেই হট্টগোল নয়, বরং শান্তি ও প্রকৃতির সান্নিধ্য খোঁজেন। কম ভিড়, পরিষ্কার সৈকত ও সহজ যাতায়াতের কারণে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্বল্প বাজেটে ছোট্ট একটি সমুদ্র সফরের পরিকল্পনা করলে গোপালপুর হতে পারে নিঃসন্দেহে এক চমৎকার পছন্দ।
যীশুর বার্তা ছড়াতে চাই দাবি পোপের
নাসার আর্তেমেসিস ২ চন্দ্র অভিযান শেষ হওয়ার পরেই ট্রাম্পের পোস্ট ব্যাপক আলোচনার...
অভিজ্ঞতাহীন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন
চুক্তি নিয়ে যদিও শুরু থেকে কোনো মাথাব্যথা ছিল না মার্কিন প্রেসিডেন্টের
জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এলাকায়