নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ব্যাংকিং ব্যবস্থায় চেক দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্ভরযোগ্য লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত লেনদেনেও চেকের ব্যবহার ব্যাপক। তবে সামান্য অসাবধানতা বা আর্থিক অনিয়মের কারণে যদি কোনও চেক বাউন্স করে, তাহলে তার প্রভাব শুধু আর্থিক ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। চেক বাউন্স হলে আইনি জটিলতা, বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হওয়া এবং ভবিষ্যতে ব্যাংকিং সমস্যার মতো নানা পরিণতি ভোগ করতে হয়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যখন কোনও ব্যাংক নির্দিষ্ট কারণে চেকের অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকার করে, তখন সেটিকে চেক বাউন্স বা ডিসঅনর্ড চেক বলা হয়। এই পরিস্থিতিতে চেক যিনি ইস্যু করেছেন অর্থাৎ ড্রয়ার এবং যিনি চেক পেয়েছেন অর্থাৎ পেয়ি—উভয়েই সমস্যায় পড়েন।
চেক বাউন্সের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালান্স না থাকা। এছাড়াও ভুল তারিখ লেখা, সইয়ের অমিল, অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা, চেকের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, বা চেকে কাটাছেঁড়া থাকলেও ব্যাংক চেক বাতিল করে দিতে পারে। অনেক সময় সংখ্যায় ও কথায় লেখা টাকার অঙ্কে গরমিল থাকলেও চেক বাউন্স হয়।
চেক বাউন্সের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে আর্থিক ক্ষেত্রে। ব্যাংক সাধারণত চেক ইস্যুকারী এবং প্রাপক উভয়ের কাছ থেকেই নির্দিষ্ট চার্জ কেটে নেয়। বারবার চেক বাউন্স হলে সেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের উপর নজরদারি বাড়ে এবং ভবিষ্যতে ব্যাংক পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা সীমিতও করে দিতে পারে।
আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চেক বাউন্সের বড় দিক হল আইনি জটিলতা। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮ অনুযায়ী, যদি পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার কারণে চেক বাউন্স হয়, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এর ফলে চেক ইস্যুকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। শাস্তি হিসেবে চেকের অঙ্কের দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানা বা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপে চেক প্রাপককে ব্যাংক থেকে মেমো পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একটি আইনি নোটিস পাঠাতে হয়। এই নোটিস পাওয়ার পর চেক ইস্যুকারীর হাতে ১৫ দিন সময় থাকে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে প্রাপক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা মানা না হলে মামলা দুর্বল হয়ে পড়ে।
চেক বাউন্সের প্রভাব ব্যক্তিগত সুনামের উপরও পড়ে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এটি বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে, নতুন চুক্তি বা ক্রেডিট পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। নিয়মিত চেক বাউন্স হলে ক্রেডিট স্কোরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে ঋণ নেওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী, যারা চেকের উপর বেশি নির্ভর করেন, তাদের অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালান্স বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্যালান্স না থাকলে চেক বাউন্স হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত জরিমানাও গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি চেক ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করতে কিছু ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
চেক বাউন্সের ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স নজরে রাখা, চেক লেখার সময় সব তথ্য যাচাই করা। সামান্য সচেতনতা চেক বাউন্সের বড় সমস্যাকে সহজেই এড়াতে পারে।
আজকের সোনার দর কত জেনে নিন
নতুন দর ঘিরে বাজারে বাড়ল নজর
পুজোর ছুটিতে কম সময়ে পাহাড় ভ্রমণের পরিকল্পনা
কুয়াশা-জঙ্গলে আজও তাড়া করে রহস্যময় মুণ্ডহীন ছায়া
দেখে নিন আজকের বাজারমূল্য
জেনে নিন সোনার আজকের বাজারমূল্য
ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর
মন্দিরের পাশাপাশি জুট-টেক্সটাইল মিল গড়ার ভাবনা
কলকাতার বাজারে সোনার নতুন দর জানুন একনজরে
গতকালের তুলনায় কিছুটা কমেছে দাম
আজ রুপোর দামে কিছুটা পতন
মানচিত্রে নতুন পরিচয়, ২১টি এলাকা-সহ ৪ গিরিপথ ও হ্রদও তালিকায়
সেনেটে পাস রাশিয়া-বিরোধী বিল, চিন-ভারত-জাপান-সহ একাধিক দেশকে ঘিরে বাড়ছে চাপ
জেদ্দায় যৌথ সমঝোতার জল্পনা, ভারত-পাক সংঘাত হলে বদলাতে পারে কূটনৈতিক হিসাব
কমবয়সিদের নিরাপত্তায় আদালতের রায়
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের