নিজস্ব প্রতিনিধি , বীরভূম - বাংলার লোকশিল্পের আঙিনায় এক নতুন ইতিহাস গড়লেন শিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়। সূচ-সুতোকে হাতিয়ার করেই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে 'পদ্মশ্রী' সম্মান পান তিনি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের দ্বারা বিলুপ্তপ্রায় কাঁথা স্টিচকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়ে নিজের পরিচয় গড়লেন তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়। একইসাথে প্রান্তিক নারীদের স্বনির্ভর হওয়ার এক নতুন পথ দেখিয়েছেন তিনি। অভাবের সংসারে থেকেও তার এই বিশ্বজয় প্রমাণ করে যে কাজের মেধা আর লক্ষ্য স্থির থাকলে কোনো বাধাই বড় হয় না।
তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়ের জন্ম আর বেড়ে ওঠা বীরভূমের এক সাধারণ পরিবারে। ছোটোবেলা থেকেই অভাব আর বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেই কেটেছে তাঁর জীবন। তৃপ্তির প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ না থাকলেও, নিজের শৈল্পিক দক্ষতাকে ক্রমশ বৃদ্ধির দিকে নজর করেছিলেন। বিয়ের পর পরিস্থিতির চাপে পড়ে সংসারের হাল ধরতে হয় তৃপ্তিকে। সংসারের দায়িত্ব সামলাতে আর্থিক উপার্জনের জন্য আর কাঁথা শিল্পকে বাঁচাতে তিনি সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। তবে সেই সময়ে গ্রামীণ পরিবেশে একজন নারীর পক্ষে ঘর থেকে বেরিয়ে পেশাদারভাবে কাজ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন।
কাজের শুরুতে তৃপ্তিকে কাঁচামালের অভাবের জন্য বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি অনেক সময় কঠোর পরিশ্রমের পরও উপযুক্ত পারিশ্রমিক পেতেন না তিনি। তবে তৃপ্তি এই পরিস্থিতিতেও দমে যাননি। তিনি বুঝেছিলেন, একা লড়াই করার চেয়ে গ্রামের আরও মহিলাদের এক সঙ্গে নিয়ে কাজ করা দরকার। এই কারণে তখন থেকেই তিনি গ্রামের মহিলাদের বিনামূল্যে কাঁথা সেলাই শেখাতে থাকেন।
পরবর্তীতে তৃপ্তি প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি গ্রামীণ মহিলাদের আয়ের পথ তৈরি করে দিয়েছেন। এমনকি তাঁর তৈরি কাঁথা শিল্প দেশ-বিদেশে প্রশংসা পেয়েছে। নারী ক্ষমতায়নে এই অবদানের জন্য ভারত সরকার ২০২৬ সালে তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়কে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে সম্মানিত করেন। আজ তিনি শুধু একজন শিল্পী নন, বরং বহু নারীর আর্থিক স্বাধীনতার অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন।
সৌদি আরবের সাহায্যে এগিয়ে এল পাকিস্তান, চুক্তি মেনে রিয়াদে মোতায়েন হলো পাক সেনা
খাওয়াদাওয়ার মাঝেই রক্তগঙ্গা! তুরস্কের রেস্তরাঁয় বন্দুকবাজের হামলায় নিহত ৪, আহত ৮
ইরানে বিষ্ণু মন্দিরের ইতিহাস জানালেন অমিতাভ বচ্চন
‘ইন্টারনেটের তারেও এবার ভাড়া দেব’! ট্রাম্পের চিনের সফরের পরেই মার্কিন টেক জায়ান্...
জেলেনস্কির বদলা! ৫০০ ড্রোনের ধাক্কায় কাঁপল মস্কো, এক বছরের বড় হামলায় বিপর্যস্ত র...