নিজস্ব প্রতিনিধি , দক্ষিণ ২৪ পরগণা - সমাজে তৈরি হওয়া লিঙ্গবৈষম্য ধারণাকে ভেঙে অনন্য নজির গড়েছেন বারুইপুরের সাহসী তরুণী টুম্পা দাস। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরতে অনেক কম বয়সে তিনি শ্মশানকর্মীর মতো কঠিন পেশাকেই বেছে নেন। সামাজিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা ছাপিয়ে মৃতদেহ সৎকারের কাজে তিনি আজ এক আত্মবিশ্বাসী আর স্বাবলম্বী নারী হয়ে উঠেছেন। ২০২৬ সালে ‘দেবী অ্যাওয়ার্ডস’-এ সম্মানিত টুম্পার এই জয় কাহিনি সকল নারীর কাছে এক অদম্য প্রেরণা।
বারুইপুরের এক অতি সাধারণ পরিবারে টুম্পা দাস জন্মগ্রহণ করেন। অভাবের সংসারে বড় হয়ে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন। তারপর তিনি একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নার্সের কাজও শুরু করেন। কিন্তু ২০১৪ সালে বাবার অকাল মৃত্যুতে পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে মা আর দুই বোনের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে আসে। চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি বাবার পেশা অর্থাৎ শ্মশানকর্মীর কাজ বেছে নেন।
গত ১০ বছরে ৫০০০ এর বেশি মৃতদেহ সৎকার করে টুম্পা দাস এক অনন্য নজির গড়েছেন। তবে এই পথে চলতে গিয়ে তাকে সমাজ আর পরিচিতদের নানা উপহাস আর কটু কথাও সহ্য করতে হয়েছে। নারী হয়ে শ্মশানে কাজ করার কারণে অনেকে তাঁকে এড়িয়ে চলতেন। এমনকি এই পেশার জন্য তাঁর বিয়ের সম্বন্ধও বারবার ভেঙে যেত। প্রতিকূল পরিবেশেও প্রতিদিন দীর্ঘ ১২-১৪ ঘণ্টা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন।
টুম্পা দাসের এই অদম্য জেদ আজ জাতীয় স্তরে স্বীকৃত পেয়েছে। ২০২৬ সালে কলকাতার সম্মানজনক ‘দেবী অ্যাওয়ার্ডস’-এ তাঁকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করা হয়। বর্তমানে তিনি শুধু একজন স্বাবলম্বী নারী নন, বরং অসংখ্য মেয়ের কাছে এক অনন্য সাহসের নাম। সমাজের লিঙ্গবৈষম্য আর কুসংস্কার ভেঙে আজ বাংলার বহু নারীর অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে উঠেছে এই টুম্পা দাস।
প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেগা হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা
একের পর এক আইনি চাপে অভিষেক
৪ বছরেরও বেশি লড়াই, ইতিহাসের পাতায় উঠে এল ইউক্রেন যুদ্ধ
এখনই এক হচ্ছে না কংগ্রেস ও তৃণমূল স্পষ্ট বার্তা কংগ্রেস নেতৃত্বের
৮ হাজার উঁচুতে মানুষের দীর্ঘ লাইন! এভারেস্টের বেহাল দশা দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন শেরপ...