696dd7ec2d0bc_us-afgan-20210414140653
জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ দুপুর ০৪:০৬ IST

আফগানিস্তানের পর ফের এক দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার আমেরিকার

নিজস্ব প্রতিনিধি , বাগদাদ - মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত মানচিত্রে আরেকটি বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হল বিশ্ব। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কয়েক বছর পর এবার ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিল ইরাকি সেনাবাহিনী। বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২০২৪ সালে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার কথা ছিল। সেই প্রক্রিয়ারই সর্বশেষ ধাপ হিসেবে এই ঘাঁটি থেকে সব মার্কিন সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরাকি প্রতিরক্ষা দফতরের কর্মকর্তারা। 

ইরাকের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল আমির রশিদ ইয়ারাল্লাহ শনিবার ঘাঁটিতে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দেন।  আইন আল-আসাদ ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরেই ইরাকে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে অভিযানে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। 

প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি আগে জানিয়েছিলেন, সিরিয়ার পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে ২৫০ থেকে ৩৫০ জন মার্কিন উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা কর্মী ঘাঁটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন সেই উপস্থিতিও শেষ হয়েছে। যদিও উত্তর ইরাকের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে এবং প্রতিবেশী সিরিয়ায় এখনও সীমিত সংখ্যক মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। 

এই প্রত্যাহার শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। ইরাকের ভেতরে বেশ কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সেনা উপস্থিতিকে তাদের অস্ত্র ধরে রাখার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করত। আল-সুদানি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জোট বাহিনী সরে গেলে “রাষ্ট্রের বাইরে কারও হাতে অস্ত্র থাকার আর কোনও নৈতিক বা রাজনৈতিক যুক্তি থাকবে না।” ফলে সরকারের পক্ষে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্রীকরণের আলোচনায় আরও পোক্ত অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন অনেকে । 

আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর যেমন তালিবান দ্রুত ক্ষমতা দখল করেছিল, ইরাকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ততটা সরল নয়। ইরাকি সেনাবাহিনী বর্তমানে তুলনামূলকভাবে সংগঠিত ও শক্তিশালী, এবং ইসলামিক স্টেট বড় আকারে মাথাচাড়া দেওয়ার মতো অবস্থানে নেই। তবু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী সিরিয়া ও মরুভূমি অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতার ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তাই আইন আল-আসাদের মতো কৌশলগত ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরাকের জন্য একদিকে যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতীক, অন্যদিকে তেমনি বড় দায়িত্বও। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, ওয়াশিংটনের নীতি স্পষ্ট—মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে কূটনৈতিক ও পরোক্ষ নিরাপত্তা সহযোগিতায় জোর দেওয়া। ইরাকের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কোন পথে নিয়ে যায়, তা নজরে রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। 

আফগানিস্তানের পর ইরাক থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আইন আল-আসাদ ঘাঁটির দখল শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা।