নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্প ‘যুবসাথী’। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে বেকার যুবক ও যুবতীদের মাসিক ১৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে প্রকল্পটি কার্যকর হওয়ার কথা। সেই অনুযায়ী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ২৯৪টি ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই প্রকল্পে আবেদন করতে গেলে কী কী নথি লাগবে?

সরকারিভাবে এখনও পূর্ণাঙ্গ নথিপত্রের তালিকা প্রকাশ না হলেও বিভিন্ন সূত্রে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বাধ্যতামূলক হতে পারে। প্রথমত, আবেদনকারীর আধার কার্ড লাগবে পরিচয়পত্র হিসেবে। দ্বিতীয়ত, বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবুকের কপি দিতে হবে, যাতে সরাসরি ভাতা স্থানান্তর করা যায়। এছাড়া সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক হতে পারে। তাই আবেদন করতে যাওয়ার আগে এই নথিগুলি প্রস্তুত রাখা জরুরি।

যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী যে কোনও মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক বা যুবতী এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য নয়; মহিলারাও সমানভাবে এই ভাতার সুবিধা পাবেন। তবে শর্ত একটাই—আবেদনকারীকে বেকার হতে হবে।
প্রথমদিকে শোনা গিয়েছিল, অন্য কোনও সরকারি স্কলারশিপ পেলে যুবসাথীর সুবিধা মিলবে না। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন, স্কলারশিপ পাওয়া এবং যুবসাথী—দুটির মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। কিন্তু যদি কেউ অন্য কোনও নিয়মিত সরকারি ভাতা বা স্কিমের টাকা পান, সেক্ষেত্রে যুবসাথীর সুবিধা নাও মিলতে পারে। বিশেষত, যাঁরা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় টাকা পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ভাতা প্রযোজ্য হবে না বলেই জানা যাচ্ছে।
এই আর্থিক সহায়তা প্রথম পর্যায়ে পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হবে। মাসে ১৫০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। তবে পাঁচ বছর পরও যদি আবেদনকারী চাকরি না পান, তাহলে প্রকল্পটি পুনর্নবীকরণ করা হতে পারে। কিন্তু চাকরি পেলেই ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে—এটাই মূল শর্ত।
সব মিলিয়ে যুবসাথী প্রকল্প রাজ্যের বেকার যুবসমাজের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারে। এখন নজর ১ এপ্রিলের দিকে—ক্যাম্পে ভিড় কেমন হয় এবং কত দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, সেটাই দেখার।
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর